দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠতার জন্য সুনামগঞ্জের খবর পাঠকপ্রিয়

হোসেন তওফিক চৌধুরী
সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতার ইতিহাসে সুনামগঞ্জের অবদান অত্যন্ত ঐতিহ্য সমৃজ্জ্বল। এই সুনামগঞ্জ থেকেই প্রকাশিক একটি দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’। পত্রিকাটি প্রকাশনার চার বছর পেরিয়ে আজ পাঁচ বছরে পদার্পণ করলো। বিগত চার বছরে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছে। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে পত্রিকার প্রকাশনা হাঁটি হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে চলেছে সুনামগঞ্জের মতো অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চল থেকে একটি পত্রিকার নিয়মিত প্রকাশনা অব্যাহত রাখা সত্যিই দুরুহ এবং কঠিন। পত্রিকা প্রকাশনার প্রাণশক্তি বিজ্ঞাপন। প্রভাবশালী মহলের চোখ রাঙানি কোন কোন সময়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রভৃতি কারণে পত্রিকার প্রকাশনা প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্থ হয়। এসব প্রতিকূল অবস্থাকে ব্যালেন্স করেই মফস্বলে পত্রিকা বের করতে হয়।
বিগত চার বছরে সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পথ পরিক্রমা করেছে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে। সুনামগঞ্জের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে পত্রিকাটি ছিল অত্যন্ত বলিষ্ট, সাহসী ও সোচ্ছার। এক কথায় সুনামগঞ্জের মাটি ও মানুষের কথা পত্রিকাটি উচ্চকিতভাবে তুলে ধরেছে। বিগত চার বছরে সুনামগঞ্জের খবর জনচিত্তে নাড়া দিয়েছে। পত্রিকার নির্ভিক ও বলিষ্ট ভূমিকার জন্য এর যে গ্রহণ যোগ্যতা পাঠকপ্রিয়তা গড়ে উঠেছে। মানুষ একটি পত্রিকার প্রতি আকর্ষিত হয় যখন প্রত্যক্ষ করা যায় পত্রিকার খবর ও সংবাদ ভাষ্য ও সম্পাদকীয় প্রভৃতি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ। প্রসঙ্গত বলা যায়, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা সংবাদপত্রের ভূষণ। এদিক দিয়ে সুনাগঞ্জের খবর ইতোমধ্যেই মানুষের মনে আসন পেয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ থেকে দৈনিক পত্রিকা বের হবে এটা ছিল ছিল কল্পনাতীত। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমরা ঢাকার প্রকাশিত পত্রিকার পাঠক থাকলেও আমরা পড়তাম বাসি সংবাদপত্র। আজকের পত্রিকা সুনামগঞ্জে আসত দুই দিন পরে। বাসি সংবাদ নিয়েই আমরা তৃপ্ত থাকতাম। দিন বদলেছে পরিবর্তন এসেছে। এখন ঢাকার দৈনিক পত্রিকা আমরা সকালেই পেয়ে যাই। সুনামগঞ্জ থেকেই কয়েকটি পত্রিকা বের হয়। সুনামগঞ্জের  পত্রিকা পড়লে অতৃপ্তি থেকে যায়। মন আপ্লুত হয়। আমি কয়েকটি মফস্বল শহরে থেকে প্রকাশিত পত্রিকা পড়ার সুযোগ পাই। কিন্তু আমার মনে হয় সুনামগঞ্জের খবর অনেক পত্রিকা থেকেই উঁচু মানের। পত্রিকা সম্পাদক পঙ্কজ কান্তি দে, কবি কুমার সৌরভ, বিন্দু তালুকদার, আকরাম উদ্দিন, সজীব দে প্রমুখের ঐকান্তিক ও নিবেদিত প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারলে পত্রিকার ভবিষ্যৎ নি:সন্দেহে শুভ না হয়ে পারে না।
সুনামগঞ্জের একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমি সুনামগঞ্জের জনাকয়েক প্রথিতযশা সাংবাদিকদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বিন¤্র শ্রদ্ধা জানাই ফজলুল হক শেলবর্ষী, মকবুল হোসেন চৌধুরী, শাহেদ আলী, মাহমুদ আলী, প্রজেশ কুমার রায়, হাসান শাহরিয়ার, সালেহ চৌধুরী, পীর হাবিবুর রহমান প্রমুখকে। পরিশেষে বলতে চাই দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করে এবং সুসংহত করে দেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম। সুনামগঞ্জ খবরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমি পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। আমি পত্রিকাটির দীর্ঘস্থায়িত্ব কামনা করে অতীতের আলোকে ভবিষ্যতেও পত্রিকার শুভ কামনা করি।
লেখক: আইনজীবী ও কলামিষ্ট।