স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

পুলক রাজ
ঈদ সামনে রেখে সর্বাত্মক লকডাউনের মধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে দোকান ও শপিংমল। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব খোলা থাকবে। তবে মানুষজন করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মানছেন না। আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত যে লকডাউন বা সরকারি বিধিনিষেধের বলবৎ আছে; রবিবার দোকান ও বিপনিবিতানে জনসমাগম দেখে তা বোঝার উপায় নেই। কোথাওই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। মানুষ স্বাভাবিক নিয়মেই আবারও বাইরে বের হচ্ছেন এবং কেনাকাটাও করছেন।
সরেজমিনে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মধ্যবাজার, পশ্চিমবাজার, পূর্ববাজার, জগন্নাথবাড়ী, জেল রোড, আলফাত স্কয়ার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে একই অবস্থা দেখা গেছে। ক্রেতারা বলছেন, তাদের কিছু জরুরি কেনাকাটা করতে হবে বলে মার্কেটে এসেছেন। তবে অনেককেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ মুখে মাস্ক পড়লেও মানছেন না শারীরিক দূরত্ব।
ক্রেতা ইউসুফ আহমেদ বলেন, মার্কেটে শপিং করতে চলে আসছি। যে হারে আক্রান্ত বাড়ছে প্রশাসন কঠোরভাবে লকডাউন দিলে তো সব বন্ধ থাকবে তাই খুলে দিতেই বাজারে চলে আসছি। আমি তো মাস্ক পড়ে আসছি কিন্তু অনেকেই মাস্ক পড়ছে না।
ইউনাইটেড প্লাজা এ.বি ক্লথ স্টোরের মালিক উত্তম রায় বলেন, লকডাউন থাকাকালীন আমরা কাপড়ের ব্যবসায়ীরা দোকান খুলি নাই। প্রশাসন থেকে ঘোষণা দেওয়ার পর খুলেছি। আমরা তো নিয়ম মেনে বেচা-কেনা করছি। কাস্টমার যদি না মানে আমাদের তো কিছু করার থাকে না। প্রথম দিনে ভালই মানুষ আসছে বাজারে। আমরা ব্যবসায়ীরা চাই, মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানুক, মাস্ক পড়ে আসুক দোকানে কেনাকাটা করতে।
ক্রেতা মেঘনা আক্তার বলেন, লকডাউনের জন্য অনেকদিন ঘরের বাইরে আসা হয় নাই। মার্কেট খুলে দেওয়ায় শপিং করতে আসছি। আমি মাস্ক পড়েছি সাথে স্যানিটাইজার নিয়ে আসছি। কিন্তু মানুষকে দেখে মনে হচ্ছে করোনা ভাইরাইস নেই। কেনাকাটা করতে এসে তো অবাক হয়ে গেলাম কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। মানুষ মাস্কও কম পড়ছে। ব্যবসায়ীরাও নিয়ম মাফিক চলছে না। মার্কেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।
ক্রেতা আরমান হোসেন বলেন, করোনা থেকে মুক্তি পেতে দোকানপাট, শপিংমল কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ঈদ বাজারে আরো ভিড় জমবে।
শুকুর মিয়া বলেন, বাজারে মানুষের ভিড়ে শারীরিক দূরত্ব মানা যায় না। সড়কে ট্রাক, সিএনজি, অটো রিকশা, রিকশা বেড়ে গিয়েছে। মানুষের চলাফেরা দেখে করোনা ভাইরাস আছে বলে মনে হয় না।
মুহিম মিয়া বলেন, সব জায়গায় মানুষ বাড়ছে। ফুটপাতে বসেছে ভাসমান দোকান, ক্রেতারাও কিনছে। কেউ নিয়ম মানছে না। সবাই যদি নিয়ম মেনে চলাফেরা করতো তাহলে আর কোন সমস্যা হতো না। আক্রান্তও কমে যেতো।
উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় এর আগে গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত লকডাউন বা বিধিনিষেধ ছিল। তবে গণপরিবহন, মার্কেট খোলা রেখে এই লকডাউন ছিল অনেকটাই অকার্যকর। এরপর সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন জারি করে। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ২৫ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করে। রবিবার সকাল থেকে তা কার্যকর হয়েছে।