শাহ আরেফিন (রহ.) মোকামের সিঁড়ি নির্মাণে অনিয়ম

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের রংপুর কান্দিগাঁও এলাকায় হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) মোকামের সিঁড়ি নির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) মোকামের সিঁড়ি নির্মাণের কাজ হয়েছে ইউপি সদস্য হোসেন মিয়া ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাইয়ের সিদ্ধান্তে। রাজমিস্ত্রির পরিবর্তে অদক্ষদের দিয়ে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য হোসেন মিয়া উপস্থিত থেকে সিঁড়ি নির্মাণে মাটি মিশ্রিত বালু, লাল রংয়ের মাটির পাথর, পরিমাণের চেয়ে কম সিমেন্ট, প্রয়োজনের চেয়ে ছোট রড ব্যবহার করা হয়েছে। সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ হয়েছে বাঁকা, উচ্চতায়ও ব্যবধান, অগোছালো, গরু ঘরের ফ্লোরের মতো গর্ত, হাঁটলে উঠে আসে সিঁড়ির ঢালাই। মোকামের সিড়ি নির্মাণে এভাবে অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান, সাবেক জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদের নির্দেশে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা সিঁড়ি নির্মাণে ৪ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের অনুরোধে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা একাধিকবার হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)’এর মোকাম পরিদর্শন করেন। ওই সময় তারা এলাকাবাসীকে বলেছিলেন সিড়ির কাজ করিয়ে দেওয়া হবে।
ইউপি সদস্য হোসেন মিয়া এলাকায় প্রচার দেন সিঁড়ি নির্মাণে বরাদ্দ পেয়েছে ২ লাখ টাকা। এতে সরকারি ভ্যাট কর্তন হবে অন্তত: ৮০ হাজার টাকা। মোট কাজ হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার। নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে মোকামের সভাপতিসহ কোনো সদস্যকে বিষয়টি জানানো হয় নি। অথচ এই কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে (পিআইও) যে কমিটি জমা দেয়া হয়েছে, সেই কমিটিতে নামেমাত্র মোকাম পরিচালনা কমিটির অনেকের নাম ও স্বাক্ষর রাখা হয়েছে।
ইউপি সদস্য হোসেন মিয়া এই প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জেলা প্রশাসকের দেয়া ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সিঁড়ি নির্মাণ করেছি। চেয়ারম্যান আব্দুল হাই আমাকে বালু, পাথর, রড, সিমেন্ট যা দিয়েছে, তা দিয়েই কাজ করেছি। কাজের অনিয়ম হলে চেয়ারম্যান জানেন।
ইউপি সদস্য হোসেন মিয়া বলেন, সিঁড়ি নির্মাণে আমিই মেস্তরী, আমিই ঠিকাদার, আমিই ইঞ্জিনিয়ার মেম্বার।
এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, আমি মেম্বার হোসেন মিয়াকে এডিবি’র ফান্ড থেকে টাকা দিয়ে বলেছি কাজ যেন ভাল হয়। কয়েকদিন আগে গিয়ে দেখেছি কাজ ভাল হয় নি। হোসেন মিয়া নিজে উদ্যোগী হয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অগোছালোভাবে কাজ করেছে। অদক্ষ মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। কোনো অনিয়ম দুর্নীতি হয়ে থাকলে হোসেন মিয়ার দায় বর্তাবে।
মোকামের খাদেম ইমান আলী বলেন, আমাদের আশা ছিল একটি দৃষ্টিনন্দন সিঁড়ি নির্মাণের। সরকারি অনুদানের টাকায় সিঁড়ি নির্মাণে অনিয়ম হওয়ায় আমাদের আশা পূরণ হয় নি।
মোকাম পরিচালনা কমিটির সদস্য ইসলামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও কান্দিগাঁওয়ের মিজানুর রহমান সিঁড়ি নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
মোকাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান জানান, আমি মোকাম পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। চেয়ারম্যান মেম্বার কাজ করার সময় আমাদের পরামর্শ আমলে নেন নি।
সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মোকাম কমিটির লোকজনকে নিয়ে চেয়ারম্যান সিঁড়ি নির্মাণের কাজ করার কথা বলে দেওয়া হয়েছে। কাজে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টরা দায় নিতে হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার বললেন, হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) মোকামের সিঁড়ি নির্মাণে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।