যৌতুকের তাড়নায় স্বামীর ঘর ছাড়লেন নববধু

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
মেহেদীর রং এখনও শুকায়নি। এর মাঝেই যৌতুকের তাড়নায় নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বামীর ঘর ছাড়তে হয়েছে এক নববধুকে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ২২ দিন সংসার করার পর তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়। অবশেষে নিরুপায় হয়ে অসহায় বাবার বাড়িতেই আশ্রয় নেয় এই তরুণি। এমন ঘটনা ঘটেছে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের করালী গ্রামের অজপাড়া গাঁয়ে।
জানা গেছে, গেল ১২ এপ্রিল উপজেলার করালী গ্রামের জমসিদ আলীর পুত্র মঈনুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয় একই গ্রামের হতভাগ্য তরুণির। বিয়ের সময় যৌতুকের দাবি না থাকলেও বিয়ে পরবর্তী যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতায় বিয়ের ২২ দিনের মাথায় ১ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বামীর ঘর ছাড়তে হয়েছে এই গৃহবধুকে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে ২০২১ দিবাগত রাত গৃহবধুর শ্বশুর জমসিদ আলীর চাহিদা অনুযায়ী বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেবার দাবি করেন গৃহবধুর স্বামী মঈনুল ও তার পরিবার। মা হারা তরুণি অসহায় দিনমজুরের কাজ করা পিতার কাছে ১ লাখ টাকা নেই জানালে সাথে সাথে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয় তাকে। শুধু তাই নয়। শ্বশুর জমসিদ আলী এগিয়ে এসে তার ছেলে মঈনুলকে বলে ‘তর বউকে তালাক দিলে আরও ভালো জায়গায় বিয়ে করাতে পারব। নগদ টাকাও পাওয়া যাবে।’ এভাবে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয় তাকে।
এ ঘটনায় গত ১৯ মে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে মঈনুল ইসলাম ও তার পিতা জমসিদ আলী কে আসামি করে আয়েশা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার কথা শুনে জমসিদ আলী তার ছেলে মঈনুলকে লুকিয়ে রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয় আয়েশার বৃদ্ধ দাদা উমর আলী (৭০) জানান, ‘জমসিদ আলী আমার পরিবারের লোকজনকে রাস্তা ঘাটে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।
মামলার ২ নং আসামি ও ছেলের বাবা জমসিদ আলী বলেন, আমার ছেলে বাড়িতে নেই, যত টাকা খরচ হওয়ার হোক আমি এই মেয়েকে বাড়ির বউ হিসাবে মেনে নেব না। প্রয়োজন ৩০/৪০ হাজার টাকা দিয়ে সালিশের মাধ্যমে আপোষ করে নিব।
আয়েশা বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছিল সম্পর্কের মাধ্যমে। আমার মা নেই, আমার বাবা একজন অসহায় দিনমজুর। আমার বাবার পক্ষে যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব নয়, তাই আমার বিয়েটাই অভিশাপ। ২২ দিনের মাথায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। আমার বাড়ির লোকজন রাস্তা ঘাটে বের হলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাদের আক্রমণ করে। আমি ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় আছি।
এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, আদালতের কপি এখনও থানায় আসেনি। মামলার কপি পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।