সাইদুর রহমান আসাদ
সুনামগঞ্জে হাওরগুলোতে শুরু হয়েছে এখন ডেমি ধান কাটা। ডেমি ধান কাটতে প্রতিদিনই কৃষকরা হাওরে ব্যস্থ সময় পার করছেন। তবে অন্যান্য বছর থেকে এবার ডেমি ধান কম হলেও সন্তুষ্ট কৃষক। তারা বলছেন, আর কয়েকদিন এই ডেমি কাটতে পারলে কয়েক মাসের খোরাক হয়ে যাবে তাদের।
হাওর বাওরের জেলা সুনামগঞ্জের কৃষকদের দুর্ভোগ নতুন নয়। এক ফসলি বোরো ফসলি এলাকায় প্রায়ই বন্যা ও খরায় ফসল হানি হয়। তবে গেলো বছর ধরে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই ফসল তুলতে পেরেছেন কৃষক। এবারও সোনার বৈশাখ পেয়েছেন তারা। কোনো রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই বৈশাখ মাসেই ক্ষেতের ধান গোলায় তুলতে পেরেছেন। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কৃষক পরিবার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জে প্রতিটি হাওরে এবার বৈশাখের শুরুতে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়। শুরুতে শ্রমিক সংকট থাকলেও উন্নতর হারভেস্টার মেশিনের ব্যবহার ও বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক আসায় কোনো সমস্যা হয়নি কৃষকদের। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে বেশিরভাগ হাওরেই এবার ধান কাটা শেষ হয়ে গিয়েছিলো। পানি বিলম্বে আসায় কেটে নেয়া ধানের গুড়ায় নতুন করে ধান জন্মিয়েছে এবার। ক্ষেত থেকে কেটে মাড়াই, শুকানো ও সিদ্ধ করতে হয় ডেমি থেকে কাটা ধানকে। যারা এই ধান কাটছেন তারা এখনও ব্যস্থ সময় পার করছেন।
শাল্লা উপজেলার কৃষক মো. ছত্তার মিয়া বললেন, আমি ৯০ কেয়ার (শতাংশে ১ কেয়ার) জমিতে ধান চাষ করেছি। বৈশাখ মাসেই ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। এখন জমিতে ডেমি হয়েছে। প্রতি বছরেই ক্ষেতে এই ডেমি ধান হয়। তবে সব সময় কাটা যায় না। কারণ অন্য বছর বৈশাখ মাসের শেষের দিকে হাওরে পানি চলে আসে। এবার এখনও আসেনি। এজন্য এখনও ডেমি ধান কাটা যাচ্ছে।
জামালগঞ্জ উপজেলার কাজির গাঁও গ্রামের কৃষক মুক্তার হোসেন ও মো. জারু মিয়া। তারা এবার হাসকার হাওরে ডেমি ধান কাটছেন। তারা বললেন, ‘১০দিন হাওরে ডেমি ধান কেটেছি। একেক জনের ১০ মণ করে ধান হয়েছে। আর কয়েকদিন কাটতে পারলে কয়েক মাসের খাবারের জন্য আর চিন্তা করা লাগবে না।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদুল হাসান বললেন, এবছর হাওরে ডেমি ধান কম হয়েছে। বড় কৃষকরা এসব ডেমি ধান কাটেন না। হাওরের গরীব কৃষকরা কিছু ডেমি ধান কেটেছেন। অনেক হাওরে পানি প্রবেশ করছে। এবার আর ডেমি ধান কাটা যাবে না।
প্রসঙ্গত, এবার সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এই ধান কাটতে ৮ হাজার ৫০০ বেপারি বাইরের জেলা থেকে এসেছিলেন। এছাড়া ১ লাখ ৮৫ হাজার আঞ্চলিক বেপারি হাওরে কাজ করছেন। এই বছর ধান উৎপাদন হয়েছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন।


