অপ্রয়োজনীয় স্পিড ব্রেকার অপসারণের দাবি

পুলক রাজ
সাধারণত সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়। কিন্তু সুনামগঞ্জ শহরের কোন কোন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে স্পিড ব্রেকার তৈরি করায় যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্যক্তি উদ্যোগে স্পিড ব্রেকার তৈরি করায় উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে।
বলছিলাম পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় স্পিড ব্রেকারের কথা। স্পিড ব্রেকারগুলোর আগে পরে নেই কোন প্রতিকী চিহ্ন, লেখা নেই কোন সতর্কবানী। এমনকি রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়নি ওই স্পিড ব্রেকারগুলো।
স্থানীয়রা বলেন, আশপাশে স্কুল-কলেজ নেই। এরপরও উকিলপাড়া মোটরসাইকেল ওয়ার্কসপ এন্ড কার ওয়াশ দোকানের সামনে স্পিড ব্রেকার তৈরি করা হয়েছে। দেখতে স্পিড ব্রেকার। কিন্তু এর ভিতরে রয়েছে পানির নেয়ার পাইপ। পানির পাইপ যাতে দেখা না যায় সেজন্য স্পিড ব্রেকারের মতো আকার দেয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় এই স্পিড ব্রেকারের অপসারণ প্রয়োজন।
অপ্রয়োজনীয় স্পিড ব্রেকার নির্মাণের কারণে অটো রিকশা, রিকশা, সিএনজি, লেগুনা, মটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানচলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা আবির হোসেন ও অটো রিকশা চালক দিলু রহমান বলেন, নিজস্ব দরকারে সড়ক কেটে পানির পাইপ নেওয়া হয়েছে। পাইপ না দেখার জন্য স্পিড ব্রেকার দিয়েছে। আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে আমার অটো রিকশায় যাত্রি নিয়ে আসা যাওয়া করি। এই জায়গায় আসলেই ঝাঁকি খেতে হয়। কোন সংকেত না থাকায় দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।
এলাকার লতিফ মিয়া বলেন, এই জায়গায় স্পিড ব্রেকারের কোন প্রয়োজন নেই। কোন স্কুল কলেজও নেই। তাহলে এরকম স্পিড ব্রেকার কেন দিলো। আমি একদিন এসে মটর সাইকেল নিয়ে উল্টে গিয়েছিলাম। এখান থেকে স্পিড ব্রেক সরিয়ে দিলে ভালো হবে।
বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘স্পিড ব্রেক উকিলপাড়ায় কেন দিসে বা কে দিসে জানি না। এরকম স্পিড ব্রেকারের কোন দরকার নাই’।
মুফাজ্জল হোসেন বলেন, স্পিড ব্রেকার দিসে, কিন্তু কোন রং নেই। প্রথমদিন রাতে বাইক নিয়ে এসে খুব জোরে ঝাঁকি খেয়েছি। আমি যতটুকু জানি উকিল পাড়ায় এরকম স্পিড ব্রেকার পৌরসভায় দেয় নাই। তা হলে কে দিলো। এরকম দরকার ছাড়া স্পিড ব্রেকার শহরের আরো অনেক জায়গায় রয়েছে। খোঁজ করে দেখার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ রইলো।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, কারণ ছাড়া স্পিড ব্রেকার থাকায় যাত্রীদের ঝাঁকুনি খেতে হয়। কিছুদিন আগে রোগী নিয়ে দ্রুত চালিয়ে যাবার সময় হঠাৎ এই স্পিড ব্রেকারে জোড়ে ঝাঁকুনি খাই, কোনভাবে রক্ষা পেয়েছি।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লোহ বলেন, আমি খবর পেয়েছি এরকম একটা স্পিড ব্রেকার হয়েছে। এটি নিয়ে পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।