লন্ডনে রানির বাড়ির সামনেও ফোন চুরি হয়-পরিকল্পনামন্ত্রী

সু.খবর ডেস্ক
আমি একজন নাগরিক হিসেবে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখছি যা আমার জীবদ্দশায় এক বিস্ময়কর উন্নতি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
দীর্ঘ ২৪ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও উদ্ধার হয়নি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ছিনতাই হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন। সেই সঙ্গে গ্রপ্তারও করা যায়নি ছিনতাইকারীকে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী মন্তব্য করে বলেছেন, লন্ডনে রানির বাড়ির সামনে থেকেও ফোন চুরি হয়।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
ফোন উদ্ধারে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে সচল ফোনের সংখ্যা ১২-১৪ কোটির মতো। এর মধ্যে প্রত্যেকদিন কোনো ফোন হারিয়ে যাচ্ছে বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এটা যে কোনো সমাজেই হচ্ছে। আমি শুনেছি লন্ডনেও এ রকম হয়। সেখানে যারা থাকে তারা বলে যে, রানির বাড়ির সামনে থেকে ফোন নিয়ে গেছে আমার।’
তিনি বলেন, ‘আমি একজন নাগরিক হিসেবে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখছি যা আমার জীবদ্দশায় এক বিস্ময়কর উন্নতি। এটা আমাদের সরকার এজন্য বলছি না। এই ঢাকা শহরে ৪০ বছর আগে আমরা চলাফেরা করতে গিয়ে কত রকমের দুর্ভোগের শিকার হয়েছি, সে তুলনায় এখন মেয়েছেলেরা অনেক ভালো পরিবেশে ঘোরাফেরা করতে পারে। এই পরিস্থিতি আরও উন্নতি করা দরকার। এজন্য আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘যে মোবাইলটা চুরি হয়েছে সেটা যে আর পাওয়া যাচ্ছে না তার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, মোবাইলটাকে তারা আর চার্জ করছে না। ইট ইজ অ্যা ডেড ফোন নাউ (এটা এখন মৃত ফোন)। ডেডবডি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যদি একটাকে চার্জ করতো তাহলে খুঁজতে সহজ হতো। এটা এভাবেই আছে। এটা নিয়ে আমি দুঃখিত বা শঙ্কিত নই। এটা একটা অর্ডিনারি এক্সিডেন্টের (সাধারণ) ঘটনা।’
এর আগে ১৬ জুন এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিএম ফরিদুল আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি আইফোন উদ্ধার করেছি। কিন্তু এর মধ্যে একটিও পরিকল্পনামন্ত্রীর ফোন ছিল না। এখন আমাদের লক্ষ্য ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা। কারণ, তাকে গ্রেপ্তার করলে ফোনটি সবশেষ কার কাছে গেছে সেটা জানা যাবে। এ জন্য ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
গত ৩০ মে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বের হয়ে বিজয় সরণি সিগন্যালে আটকা পড়ে মন্ত্রী। সে সময় মন্ত্রী গাড়ির গ্লাস নামিয়ে ফোনে কথা বলছিলেন। ঠিক তখনই কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুট করে কেউ একজন মোবাইল নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওইদিনই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ডিএমপির কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন।

সূত্র : সময়টিভিঅনলাইন