লকডাউনে মধ্যবিত্তের হতাশা

সাইদুর রহমান আসাদ
মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে চলমান কঠোর লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। দোকানপাঠ বন্ধ থাকায় আয় রোজগার নেই। জরুরী পরিসেবার তালিকায় যারা খোলা রাখতে পারছেন, তারাও ক্রেতা পাচ্ছেন না। এতে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি। এসব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অসংখ্য নিম্ন আয়ের কর্মচারি। লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন কর্মচারিরা কাজ হারিয়েছেন, অপরদিকে নিজেরাও লোকসানের মধ্যে পড়েছেন। নিম্ন মধ্যবিত্ত এসব মানুষের ঘরে খাবার না থাকলেও লজ্জায় মানুষের কাছে বলতে পারছেন না। সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য পাওয়া গেলেও লোক লজ্জায় লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে পারছেন না।
সুনামগঞ্জ রুচিশীল পাঠক ও ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে পৌর বিপনীর ‘মধ্যবিত্ত’ দোকানে। সৃজনশীল বই ও কাপড়ের জন্য মানুষের আকর্ষণ এই দোকানের প্রতি। কিন্তু কঠোর লকডাউনের আওতায় অন্যসব দোকানের মতো বন্ধ রয়েছে এটি। মধ্যবিত্ত’র মালিক মানবেন্দ্র কর পাপ্পু বললেন, লকডাউনে মধ্যবিত্তদের দেখার কেউ নেই। দোকানপাঠ বন্ধ, আয় রোজগার শূন্যের কোঠায়। এতে দোকান ভাড়া, স্টাফদের বেতন, বাজারের খরচ, বিদ্যুৎ – গ্যাস বিল, বাচ্চার দুধ, বাবার ওষুধ কিভাবে আসবে? লকডাউন বেড়েছে আরও ৭ দিন। পেট কে ৭ দিন বুঝাই কী করে?
তিনি আরও বলেন, টিসিভির গাড়িটা দেখি, ওখানে আমাদের শোরুমের স্টাফদের বাবা-মায়েরা লাইনে থাকে, আমি দাঁড়াতে পারি না। পুঁজি ভেঙে খেতে খেতে শেষ। এখন খাবো কী? ৩৩৩ ফোন করলে ম্যাজিস্টেট এসে দেখবে, পাকা দালান। ভেতরে যে খাবার নেই, সেটা কি করে দেখাই?
জরুরী পরিসেবার কিছু দোকানপাঠ শর্তসাপেক্ষে খোলা রয়েছে। খাবারের দোকানগুলো নিদিষ্ট সময়ের ভেতর পার্সেল সার্ভিস চালু রয়েছে। তবে মিলছে না ক্রেতা। দিনভর দোকানপাঠ খোলা রেখেও ক্রেতা না আসায় লোকসানের বোঝা নিয়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে।
মুদি দোকানী উৎপল দাস বললেন, এ অবস্থায় দোকান খোলা রেখেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এক ঘন্টায় এক কেজি ডাল বিক্রি করতে পারি না। এতে দোকান ভাড়া ও পরিবারের খরচ চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।