পুলক রাজ
করোনাকালীন সংকটে পড়েছেন শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ। গত বছর বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে নিম্ন আয়ের মানুষজন সাহায্য সহযোগিতা পেলেও এবারের লকডাউনে তাও মিলছে না। শহরে কাজকর্ম না থাকায় খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। লকডাউনের মেয়াদ যত বাড়ছে দুর্ভোগও বাড়ছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের খেলনা বিক্রেতা সাদির মিয়া বললেন, লকডাউনের আগে আমার নিজের, আমার বউ আর ছেলের রুজিতে সংসার ভালোই চলছিলো। লকডাউনে কাজ বন্ধ হওয়ায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আগে আমি প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা রুজি করতাম। শহর লকডাউনের কারণে মানুষ একদম কম। গ্রামগঞ্জের হাটেও যেতে পারছি না। হাট বাজার বসেই না, যাব কোথায়। শহরজুড়ে হেঁটে ১০০-১৫০ টাকা রুজি করতে দম বের হয়। সংসারে এক ছেলে সে রঙের কাজ করে। তার কাজও বন্ধ। তিন মেয়ে তিনটাই প্রতিবন্ধী। বউ মানুষের বাসা বাড়িতে গিয়ে বুয়ার কাজ করতো। তারও কাজ বন্ধ। জামতলার একটা বাসায় ভাড়া থাকি পরিবার নিয়ে। মাসে বাসা ভাড়া ৬ হাজার টাকা দিতে হয়। কিভাবে খেয়ে বেঁচে থাকি।
সাদির মিয়া বলেন, গত বছরের মতো এবছর কেউ সাহায্য সহযোগিতাও করছে না। প্রায় সময় না খেয়ে থাকতে হয় পরিবার নিয়ে। খুব চিন্তায় আছি সংসার নিয়ে।
ফল বিক্রেতা তাজুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের আগে ফল বিক্রি জমজমাট ছিলো। লকডাউন দেওয়ায় মানুষ ঘরবন্দী। ঠেলাগাড়ীতে আম নিয়ে পুরো শহর ঘুরছি। কিন্তু বিক্রি নেই বললেই চলে।
রিকশা চালক কুদরত মিয়া বলেন, আমি লকডাউনের আগে সিলেট-সুনামগঞ্জ বাসের হেল্পার ছিলাম। লকডাউন দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে রিকশা চালানো শুরু করেছি।
ঝালমুড়ি বিক্রেতা সামাদ আলী বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। আমার সামান্য যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। গত বছরের লকডাউনে অনেক টাকা ঋণ ছিলাম। ঋণ দিতে এখনও হিমশিম খাচ্ছি। এর মধ্যে আবার লকডাউন। এরকম চলতে থাকলে সামনে কি হবে জানি না।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বললেন, আমি মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছি খোঁজ খবর নিচ্ছি। মঙ্গলবার দুপুরে সরকারি ৪৬ টন চাল বরাদ্দের চিঠি পেয়েছি। নগদ টাকার কোন বরাদ্দ এখনো পাই নি। ঈদের আগে ৪৬২১ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল সহায়তা দিতে পারবো।
- আলীপাড়ার সড়কে জনদুর্ভোগ
- কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও তাঁর পরিবারবর্গের সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা


