সদর হাসপাতালে বখাটের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত, এক বখাটে আটক

স্টাফ রিপোর্টার
রোগী দেখতে বাড়িতে না যাওয়ায় বখাটের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক চিকিৎসক। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মঙ্গলবার সকাল ৭ টা ২২ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পাশর্^বর্তী হাসননগর এলাকার মো. মিজানুর রহমান (১৯) নামের এক বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সদর হাসপাতালের আবু জাহিদ মাহমুদ নামের এক চিকিৎসককে থাপ্পর মেরেছে সে।
পুলিশ ও হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন, অভিযুক্ত বখাটে মিজানুর রহমান শহরের হাসননগর এলাকার আখিল মিয়ার ছেলে। মিজানের ভাই অসুস্থ হওয়ায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫ টায় চিকিৎসককে বাসায় নিতে সদর হাসপাতালে এসেছিল সে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু জাহিদ মাহমুদ এসময় তাকে জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ শূন্য রেখে বাসায় যাওয়া যাবে না। রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। তিনি রোগীর শারিরিক অবস্থা জেনে কিছু ওষুধ লিখে দেন এবং রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। এরপর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মিজানুর রহমান তার ভাইকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে। চিকিৎসক আবু জাহিদ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির কথা বলেন। ভর্তি করার কথা শুনেই রোগীর সঙ্গে থাকা আবু সালেক ডাক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মিজানুর রহমান নামের যুবক ডাক্তারের কাছে এসে তাকে থাপ্পর দেয় এবং চিকিৎসক আবু জাহিদ মাহমুদকে লাঞ্ছিত করে।
খবর পেয়ে অন্যান্য ডাক্তারগণ হাসপাতালে আসেন। বিক্ষুব্ধ ডাক্তাররা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ও অন্যান্য চিকিৎসকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাঞ্ছনার শিকার চিকিৎসক আবু জাহিদ মাহমুদ বখাটে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন।
বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সকালে এক রোগীর স্বজন এসে জরুরি বিভাগের ডাক্তারকে তার বাসায় নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি জরুরি বিভাগ অরক্ষিত রেখে যান নি। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করা হয়।
লাঞ্ছিত চিকিৎসক বলেন, বাসায় গিয়ে রোগী না দেখায় মিজানুর রহমান ও তার ভাই আবু সালেক আমাকে লাঞ্ছিত করেছে, আমি এর বিচার চাই।
সুনামগঞ্জ বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সৈকত দাস বলেন, এই বখাটেরা এর আগেও হাসপাতালে এসে সেবিকার গায়ে হাত তুলেছে। এবার ডাক্তারকে মারপিঠ করে তারা হাতে পায়ে ধরে আপোস করার জন্য লোক লাগিয়েছিল। আমরা ডাক্তাররা বলেছি, এভাবে হয় না, আস্কারা দিলে বার বারই অপমান করবে। এবারও চিকিৎসককে চর থাপ্পর দেবার সময় মিজান বলেছে, ‘নার্সের গলায় ছুরিকাঘাত করার পর কিছুইতো হয় নি, তোরা কি করতে পারছস’।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. শহিদুর রহমান জানালেন, এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দান ও সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগে মঙ্গলবার বিকালে মামলা হয়েছে। মো. মিজানুর রহমান ও মো. আবু সালেক মিয়া নামের দুইভাইসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মিজানুর রহমান এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শ্রাবন্তি কোচ (২২) নামের এক সেবিকার গলায় ছুরিকাঘাত করে আহত করেছিল। সে সময় মিজানুরের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং সেবিকারা কর্মবিরতী পালন করেছিলেন।