দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে খাস জমি দখলের প্রতিবাদ করায় পুরো পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে গ্রাম-পঞ্চায়েতের মাতব্বরা। ঘটনাটি ঘটেছে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের পূর্ব মাছিমপুর গ্রামে।
লকডাউনের মধ্যে নিরীহ ওই পরিবারের লোকজন এখন গৃহবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদেরকে মসজিদে নামাজ পড়তে এবং হাটবাজারে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি তাদের দোকান থেকে গ্রামের কোন লোক জিনিসপত্র ক্রয় এবং তাদের সাথে উঠাবসা করার কোন প্রমাণ পাওয়া গেল ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘোষণা দেয়া হয়। গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর গ্রামের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই পরিবারকে একঘরে রাখা হয়।
জানা যায়,
দেড় বছর পূর্বে পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বাজারের গলিতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের ইমান আলীর পুত্র আলী হোসেন ও একই গ্রামের মজর আলীর পুত্র আবদুর রহিমের হাতাহাতির ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ দিন পর মারা যান আহত রহিম উদ্দিন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামী আলী হোসেন বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ওই ঘটনার পর থেকে আসামীর পরিবারের সমস্ত লোকদের নানাভাবে অত্যচার ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় বাদী পক্ষের সাথে আপোষ মীমাংসাও করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু মাতব্বরা তাদের বিরুদ্ধে আবারও উঠেপড়ে লাগে। গ্রামের মসজিদের সামনের মার্কেটের সামনের খাসজমি আলী হোসের পিতা ইমান আলী দীর্ঘদিন ধরে দোকান ঘর বানিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। এই জমি থেকে তাদেরকে সরে যেতে গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকজন চাপ সৃষ্টি করে। এরই সূত্র ধরে পঞ্চায়ের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে একঘরে করে রাখে।
নিরীহ পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, গত ৯ জুন থেকে পরিবারটিকে অন্যায়ভাবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা, যাতায়াত এবং বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দিয়ে সমাজ থেকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর বলেছেন, এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ গ্রামে গিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত করে এসেছে। এমন কিছু হলে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


