আকরাম উদ্দিন
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কঠোর লকডাউনের ১৪ দিন পর দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহর ও শহরতলীর হাট বাজারে মানুষ সমাগম বেড়েছে অতিমাত্রায়। একই সাথে যানবাহন চলাচলও বেড়েছে ব্যাপক হারে। বেড়েছে দোকানপাটে বেচাকেনা। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় প্রতিটি দোকানে।
শহর ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানপাটে, শপিং মলে, বিভিন্ন মার্কেটে এবং ফুটপাতে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা মার্কেটের গার্মেন্টেসের দোকানে, মধ্যবাজারের কাপড়ের দোকানে, বিভিন্ন শপিং মলে, মুক্তারপাড়ায় লতিফ প্লাজায় গার্মেন্টেসের দোকানে, দোজা শপিং সেন্টারে বিভিন্ন গার্মেন্টসের দোকানে এবং প্রসাধনীর দোকানে, ট্রাফিক পয়েন্টের ফুটপাতে রেডিমেট জামা-কাপড়ের দোকানে, পৌরবিপণি এলাকায় জুতার দোকানে, জগন্নাথবাড়িতে মসলাপাতির দোকানে ক্রেতাদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। ব্যাংকে লেনদেন ও হোটেল রেস্তোরা ছিল ক্রেতাদের ভিড়। ওয়েজখালি বাজারে এবং ষোলঘর বাজারে ছিল মানুষের বেশি সমাগম। শহরতলীর হালুয়ারঘাট বাজারেও ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল সিএনজি, রিকশা, অটোরিকশার যানজট। গ্রাম-গঞ্জের মানুষ নৌকা ও গাড়ি বুঝাই করে শহরে এসেছে। ঈদের জামা-কাপড় কেনাকাটার পাশাপাশি মসলাপাতি ও পিঠা-চিড়ার উপকরণ কিনে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এসব মানুষ। শহরের প্রতিটি সড়কে যেমন সারিবদ্ধ গাড়ি চলাচল ছিল, তেমনি প্রতিটি দোকানে ছিল ক্রেতাদের ভিড়।
শহরতলীর সৈয়দপুর গ্রামের রিকশা শ্রমিক সহিদুল মিয়া বলেন, সকাল থেকে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছি। দুপুর পর্যন্ত তিনশত টাকা উপার্জন করেছি। রাত পর্যন্ত চালালে অন্তত হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবো। তিনি বলেন, নিজস্ব জমি জমা নেই, ২-৪ দিনে যে টাকা উপার্জন করবো, এই টাকা দিয়ে কিছু ঋণ পরিশোধ করবো এবং ঈদের খরচ করতে পারবো।
রিকশা শ্রমিক রশিদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাড়ে ৩ শত টাকা উপার্জন করেছি। শরীর ভাল থাকলে ঈদ উপলক্ষে যে টাকা উপার্জন করব, তা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করব এবং ঈদের খরচ করব।
শহরতলীর আপ্তাবনগর গ্রামের সিএনজি চালক লতিফ মিয়া বলেন, অনেকদিন পর আজ গাড়ি চালিয়ে দুপুর পর্যন্ত হাজার খানেক টাকা উপার্জন করেছি। রাত পর্যন্ত চালালে প্রায় ২ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবো। এভাবে ঈদ পর্যন্ত গাড়ি চালালে ঋণও পারিশোধ করতে পারবো। ঈদের বাজারও করতে পারবো।
শহরের হোটেল শ্রমিক হারুন মিয়া বলেন, হোটেলে কাষ্টমার সকাল থেকে আসছে। ঈদের আগে ২-৩ দিন বেচাকেনা হবে। এরপর আবারও কঠোর লকডাউন। আমাদের ঈদ করা আর হবে না। চাকুরি করে কয় টাকা পাই। ঋণের বুজা বেড়েছে।
বাজারে আসা ক্রেতা শহরতলীর বেলাবর হাটীর আব্দুস সামাদ বলেন, ঈদের জামা কাপড় কিনতে এসেছি। মানুষের ভিড় দোকানে দোকানে। অপেক্ষায় আছি। সুযোগ পেলেই দাম দর করব।
ক্রেতা শওকত আলী বলেন, বাজারে এতো ভিড় বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষের দাম দর দেখে মনে হয়, দোকানদার কাপড়ের যে দাম বলবে, সেই দামেই কাপড় কিনে নেবে।
ভুষিমালের ব্যবসায়ী প্রাণেশ রায় বলেন, অন্যদিনের চেয়ে আজ একটু বেশি ক্রেতা মালামাল কিনে নিচ্ছেন। মালের দাম বাড়েনি।
কাপড়ের ব্যবসায়ী সজল বিশ্বাস বলেন, ক্রেতাদের ঝামেলায় কোন কাপড়ের কোন দাম বলবো, মনস্থির করতে পারছি না। মাঝে মাঝে কাপড়ের দামে ভুলও বলি। মৃদু হেসে বললেন, ভুল বললেও কম বলি নি। বিক্রিও করি ভুল দামে।
শহরের লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন পলাশ বলেন, লকডাউনের পর দোকানপাট খুলতেই মানুষ হুমরি খেয়ে পড়েছেন। মানুষ মনে করেন এই বুঝি মালামাল শেষ, আর পাবো না। যে যেমন দামে মালামাল কিনে নিচ্ছেন। আসলে বেশি তাড়াহুড়ায় নিজেই টকা খাচ্ছেন। অপরদিকে দুরত্ব বজায় না রেখে মালামাল ক্রয় করায় করোনা আক্রান্তের বড় আশংকা রয়েছে।
শহরের রিভার ভিউ এলাকার নৌকা চালক আক্কাছ আলী বলেন, লকডাউনের পর ঈদকে সামনে রেখে নৌকার যাত্রী অতিরিক্ত বেড়েছে। নৌকায় উঠার পর যাত্রীরা মনে করেন আর মাস্কের প্রয়োজন নেই।
জেলা বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডাক্তার সৈকত দাস বলেন, বাজারে বেশি মানুষের সমাগম করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও বেশি। মাস্ক পড়েও যদি গায়ে গায়ে ঘেঁষে বাজার করে তবুও নিরাপদ নয়। করোনা প্রতিরোধে সকল প্রকার বিধি নিষেধ মেনে চলা সকলের উচিৎ।


