নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মাঠে প্রশাসন
বিশেষ প্রতিনিধি
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর আশপাশের পর্যটনস্পট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক) সহ সীমান্তের পর্যটন স্পটগুলোতে ঈদের ছুটিতে এসেছেন পর্যটকেরা। করোনা সক্রমণ রোধে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরের নানা দিক দিয়ে ঢুকছেন তারা। এদের বেশিরভাগেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আসা ৪ পর্যটক দলকে বৃহস্পতিবার জরিমানাও করেছেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির। এরপরও পর্যটন স্পটগুলোটে উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে পর্যটকদের।
রূপে-গুণে অনন্য টাঙ্গুয়ার হাওর। পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয়। প্রাকৃতিক বন, পরিযায়ী ও দেশি পাখির নিরাপদ আবাসস্থলও এটি। দেশের অন্যতম সুন্দর ও জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ সম্ভাবনাময় একটি জলাভূমি। অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাওরের সম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি রয়েছে বেসরকারি উদ্যোগও।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপর ও ধরমপাশা উপজেলার বিশাল এলাকা নিয়ে এই হাওরের অবস্থান। ২টি উপজেলার ৪ ইউনিয়নের ১৮টি মৌজা মিলে হাওরের আয়তন ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। হাওরে ছোট বড় ১০৯টি বিল আছে। তবে প্রধান বিল ৫৪ টি। হাওরের ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য খাল ও নালা। বর্ষায় সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ওই সময় হাওর রূপ নেয় সমুদ্রে। হাওর এলাকার ৮৮টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ হাওরের ওপর নির্ভরশীল। হাওরের উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড়। এই পাহাড় থেকে ৩৮টি ঝরনা নেমে এসে মিশেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে।
হাওরে ঘুরে বেড়াতে এখন বেশ ভালো সুযোগ-সুবিধা রয়েছে পর্যটকদের জন্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের জন্য ভাড়ায় মিলে বেশ কিছু ছোট বড় নৌকা। এসব নৌকায় রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। তবে করোনার সক্রমণ রোধে পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের আগমন নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। করোনাকালে দফায় দফায় লকডাউন হওয়ায় অন্য যে কোন বছরের চেয়ে এবার সৌন্দর্য্য বেড়েছে পর্যটনজোন তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ আশপাশের পর্যটন এলাকায়। প্রকৃতি যেন নিজেরমত করে অপরূপ সাজে সেজেছে। গাছাগাছালিও যেন সবুজের ছায়ায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
ঈদ উপলক্ষে লকডাউন শিথিল করায় ঈদের দিন থেকেই হাওরে পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢুকার প্রধান প্রধান পথগুলোতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি জেনেও ভিন্ন ভিন্ন পথ দিয়েও কোন কোন পর্যটকদল হাওরে ঢুকেছে।
তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এই মৌসুমে কোলাহল কম।
সড়কপথে আসা পর্যটক খুবই কম এবার এসেছেন হাওরে। যারা এসেছে তাদের বেশিরভাগই নৌ-পথে ট্রলারে এসে ঢুকেছে হাওরে।
ধর্মপাশা থেকে আসা সালমান মিয়া বললেন, ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে ঈদের ছুটিতে এসেছেন। ঈদের পরদিন বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে এসেছেন টাঙ্গুয়ায় বেড়াতে। নিষেধাজ্ঞা জেনেও এসেছেন জানিয়ে বললেন, বিশাল হাওরের পথ, ট্রলারে এসেছেন, এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের কেউ পায় নি তাদের।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে মাহবুব হোসেন মোটর সাইকেল ৫ ঘণ্টা চালিয়ে বৃহস্পতিবার এসেছিলেন নীলাদ্রি লেক ও টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরতে। বললেন, নিষেধাজ্ঞা আছে জেনেই এসেছি, যেখানে আটকাবে, সেখান থেকে প্রয়োজনে ফেরৎ যাব। সিলেট থেকে আসা তোফাজ্জল হোসেনও একই ধরণের মন্তব্য করলেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বললেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটক ঢুকার অনেক পথই আছে। গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে পুলিশসহ ম্যাজিস্ট্রেট রেখে অস্থায়ী চৌখি বসানো হয়েছে। ৪ পর্যটক দলকে বৃহস্পতিবার জরিমানা করা হয়েছে। করোনা থেকে নিজে বাঁচতে এবং অন্যকে বাঁচাতে নিজে থেকেই সচেতন হতে হবে। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি। সকলে সহায়তা না করলে বিশাল জলরাশির সকল পথ বন্ধ করা কঠিন।


