করোনায় মানুষের পাশে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন

পুলক রাজ
পৌর শহরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৪ ব্যক্তির মরদেহ দাফন করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা। সর্বশেষ গত ৩১ জুলাই পৌর শহরের বনানীপাড়ার বাসিন্দা মমতা বেগমের দাফন করেন ফাইন্ডেশনের সদস্যরা। স্বেচ্ছাসেবীদের দুইটি টিম কাজ করে। একটা হলো নারীদের, অন্যটি পুরুষদের। করোনা ভাইরাসের লাশের গোসল থেকে শুরু করে দাফনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন সংগঠনের কর্মীরা। সুরক্ষা পোশাক পিপিই, হাতের গ্লাভস, চোখে চশমা পড়ে নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেন। মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযথ ধর্মীয় রীতি মেনে চলছে এ সেবা।
জানা যায়, পৌর এলাকায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০০ সালে। তখন অনেকেই সিলেট থেকে মেডিটেশনের কোর্স করে এসে প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন জনের বাসায় একত্রিত হয়ে মেডিটেশন করতেন। ২০০৯ সালে শুরু হয় ফাউন্ডেশনের অফিস কার্যক্রম।
এসময় থেকেই সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুল ও কলেজে বিনামূল্যে পড়াশোনা, থাকা খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্ন দুর্যোগ, বন্যা, করোনার সময় কোয়ান্টাম সুনামগঞ্জে ত্রাণ বিতরণ করেছে। এছাড়াও নলকূপ স্থাপন করা, খতনা কার্যক্রম, দন্ত চিকিৎসায় সহায়তা, এতিম শিশুদের লালন পালনের ব্যবস্থা, সেলাই মেশিন প্রদান, অসহায় গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণে সহায়তা করছে সংগঠনটি।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে চলমান লকডাউনের মধ্যেও থেমে নেই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে করোনা ভাইরাসের মৃত্যু হওয়াদের মরদেহের দাফন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাজধানীসহ সারাদেশেই চলছে নিরলস মানবিক এ সেবা কার্যক্রম।
কোয়ান্টামের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। এর মধ্যে মুসলিম তিন হাজার ৪২৮ জন, সনাতন ৪৮৭ জন, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ২২ জন এবং সমাধি করা হয় ৩৪ জনকে। এ ধারবাহিকতায় পৌর এলাকায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ-পর্যন্ত ৪ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলার লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাড, এনাম আহমদ বলেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ভালো ভালো কাজ করে যাচ্ছে, নিরবে নিভৃতে। আমি এর সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
অ্যাড, মতিয়া বেগম বলেন, আমরা সাধারন মানুষের কাছ থেকে স্বতস্ফূর্তভাবে যে দান প্রাপ্ত হই, তা বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে আমরা তা ব্যয় করি। আমি আশা করি ভবিষ্যতে সবার সহায়তায় এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।
সুনামগঞ্জ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’র ট্রেনিং প্রো অর্গানিয়ার সারোয়ার আহমদ বলেন, আমরা আর্তমানবতায় সেবায় সর্বদা প্রস্তুত আছি। লাশ দাফনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, আমরা সাধ্য মত তা করার চেষ্টা করবো। করোনা ভাইরাসে মারা গেলে কোন পরিবার যদি ভয় পেয়ে দাফন বা শেষকৃত্য করতে ভয় পায়, তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করি। মৃত ব্যক্তির যে কেউ খবর দিলে আমাদের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত মৃত লোকের বাড়ি গিয়ে হাজির হয়।
তিনি বলেন, আমাদের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে স্বেচ্ছাসেবীদের দুইটা টিম কাজ করে। একটা হলো নারীদের আরেকটা পুরুষদের। করোনা ভাইরাসের লাশের গোসল থেকে শুরু করে দাফনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকি। সুরক্ষা পোশাক পিপিই, হাতের গ্লাভস, চোখে চশমাসহ পুরো পোশাক পরে নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে থাকি। এছাড়া প্রতি শুক্রবার সকালে আমাদের অফিসে মেডিটেশনসহ মানষিক উৎকর্ষ সাধনে কিছু কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। যা সকলের জন্য উন্মুক্ত।