আশা জাগানিয়া বৃষ্টি

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জের হাওর, বিল ও নদীতে এবার পানি কম থাকায় মাছের বংশ বিস্তারে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। মাছের পোনা বৃদ্ধি মওসুমে পর্যাপ্ত পানি ছিল না হাওর জলাশয়ে। গত তিনদিনের টানা ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জের নদী ও হাওরে কিছুটা পানি বেড়েছে। পানি বাড়ায় মাছের উৎপাদনও বাড়বে এমন প্রত্যাশা করছেন প্রবীণ মৎস্যজীবীরা। অবশ্য বৃষ্টিপাতে শাকসবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সবজী চাষীরা।
সদর উপজেলার দেখার হাওর, কাংলার হাওর, মরাগাঙ, সিলুয়া বিল, সুরমা নদী, চলতি নদীসহ বিভিন্ন হাওর বিলে এ বছর পানি কম থাকায় মাছের পোনা বৃদ্ধিতে নানা সমস্যা হয়েছে। এ কারণে মাছের উৎপাদন অনেকটা ব্যাহত হয়েছে। মাছের ডিম পারাসহ বংশবিস্তার মওসুমে কম পানি থাকায় পোনা বড় হতে পারে নি বা বিস্তৃতি ঘটাতে পারেনি। এই কারণে ঘন জালে মাছের পোনা অবাধে নিধন করেছে কেউ কেউ।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর, জোয়াল ভাঙা, আঙ্গারুলি হাওর এবং রক্তি নদীতেও এবার পর্যাপ্ত পানি ছিল না। তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, মাটিয়ান হাওর, শনির হাওর, জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওর, মইয়ার হাওর, দক্ষিণ পিঙলার হাওর, জামাইকাটা হাওর, দিরাই উপজেলার কালিয়াকোটা, বরাম হাওর, চাকতি হাওর, উদঘল হাওর, কান্নির হাওর। জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরে, ছাতিধরা বিল, হালির হাওর, মিনি পাকনা, জোয়ালভাঙা, মহালিয়া হাওর। ধর্মপাশা উপজেলার ধারাম হাওর, ধানকুনিয়া, টগা, চন্দ্র সোনারথাল প্রভৃতি হাওরেও পানি কম ছিল। পানি কম থাকায় বড় হাওরগুলিতে প্রতিনিয়ত মাছের পোনা শিকারে ব্যস্ত ছিল ঘন জালের শিকারীরা।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, মাছের দেশে হাট বাজারে দেশীয় মাছের আকাল এবার। হাওরে পানি কম থাকায় ঘন জাল দিয়ে পোনা নিধন হয়েছে হাওরে হাওরে।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি আলাউর রহমান বলেন, হাওর বিলে ও নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে মাছের উৎপাদন ভাল হবে। মাছের পোনা বড় হওয়ার সুযোগ পাবে।
সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রাণী বিশ্বাস বলেন, হাওর বিলে ও নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেও মাছের ডিম পারার সম্ভাবনা এখন অনেকটা কম। মাছের পোনা বড় হবে, এই সময় এখনও আছে। পোনা নিধন প্রতিরোধ বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কোনো যান্ত্রিক জলযান নেই। প্রতি উপজেলায় ১ টি করে যান্ত্রিক জল যান প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া মৎস্য বিভাগে লোকবল স্বল্পতাও রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান জরুরি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামছুদ্দোহা বলেন, আগামী আরও ৩ দিন বৃষ্টি হতে পারে। হাওর বিল ও নদীতে পানি বাড়তে পারে। তবে সুনামগঞ্জে বন্যার কোনো আশংকা নেই।
সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা এলাকার কৃষক আব্দুল মোতাল্লিব জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শাক সবজির ক্ষতি হয়েছে। যেমন সীম, লাউ, লাল শাক ও মুলা শাকের জমিতে পানি লেগেছে। তবে ধানের কোনো ক্ষতি হয় নি।