সম্ভাব্যতা সমীক্ষাকারী এরা কারা?

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরের দক্ষিণ নতুনপাড়া এলাকায় ছাতক-সুনামগঞ্জের রেল লাইনের সম্ভাব্যতা যাচাইকারী পরিচয় দিয়ে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ শহরের দক্ষিণ নতুন পাড়ায় কাজ করেছেন কয়েকজন। তাদের কথা বার্তায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের দক্ষিণ নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা বিকাশ কান্তি দে বাবুল জানালেন, মঙ্গলবার বিকালে তিনি বাড়িতে গিয়ে শুনেন, রেলওয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু লোকজন মহল্লায় এসেছিল। তারা কিছু বাড়িতে নম্বর দিয়েছে এবং এই বাড়ি রেলওয়ে অধিগ্রহণ করবে। বুধবার বেলা ১১ টায় কাগজপত্র নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের থাকার জন্যও বলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টা থেকে এলাকাবাসী তাদের জন্য দক্ষিণ নতুনপাড়ার সড়কে অপেক্ষা করেন। কিন্তু কেউই বিকাল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত ওই এলাকায় যায় নি।
বিকাশ কান্তি দে বাবুল বললেন, আমরা দীর্ঘদিন হয় এই এলাকায় বসবাস করছি। বাবার করা ভিটেতে ছেলে, দাদার করা ভিটেতে নাতি থাকছে। আমাদের মহল্লা যেখানে শেষ হয়েছে, সেই অংশ থেকে বিশাল হাওর এলাকা রয়েছে। যেখানে কোন স্থাপনা নেই। সেই জমি রেখে মানুষের বসতি এলাকায় কেন এসে রেলওয়ের পরিচয় দিয়ে সমীক্ষা চালানোর কথা বলে মহল্লাবাসীকে উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলা হয়, এটা বুঝতে চাই আমরা। এজন্য সকাল থেকে সকলে মহল্লার সড়কে অবস্থান করেছি, কিন্তু কেউই আসে নি। আগের দিন যারা এসেছিল, তারা কোন ফোন নম্বরও রেখে যায় নি।
একই এলাকার বাসিন্দা শফিক চৌধুরী বললেন, মঙ্গলবার বিকালে আমি শহরে ছিলাম, বাড়ি’র ভাড়াটিয়া আমাকে ফোন দিয়ে জানায় কিছু লোকজন এসে বলছে, এই বাড়ি রেলওয়ের অধিগ্রহণের মধ্যে পড়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ভাড়াটিয়ার ফোন দিয়েই রেলওয়ের সমীক্ষাকারী পরিচয় দানকারীদের সঙ্গে কথা বলি, তারা আমাকে জানায়, রেলওয়ের জন্য আমার বাড়ির জায়গা ছেড়ে দিতে হবে, বুধবার বেলা ১১ টায় কাগজ নিয়ে উপস্থিত থাকার কথা জানায়। সকালে আমরা উপস্থিত থাকলাম, কেউ আসলো না। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখায় যোগাযোগ করলাম, পৌরসভায় যোগাযোগ করলাম তারাও কিছু জানাতে পারলো না।
স্থানীয় (৫ নম্বর ওয়ার্ড) ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম সাবেরীন সাবু বললেন, দক্ষিণ নতুনপাড়ার বাসিন্দাদের মঙ্গলবার রেলওয়ের লোকজন পরিচয় দিয়ে কয়েকজন এসে বলেছেন, তাদের বাড়ি রেলওয়ে অধিগ্রহণ করবে এই বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু রেলওয়ের কেউ পৌরসভায় বা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নি।
জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার আজমল হোসেন বললেন, এ ধরণের কোন চিঠি আমরা পাই নি, কেউ এজন্য যোগাযোগও করে নি।