নিবন্ধন করেও টিকার অপেক্ষায় ১ কোটি ৭২ লাখ মানুষ

সু.খবর ডেস্ক
নিবন্ধন করে অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ৫ আগস্ট টিকার অপেক্ষায় ছিলেন প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ। আর গত মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত নিবন্ধন করে টিকার অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ। অর্থাৎ মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে টিকার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষ বেড়েছে প্রায় এক কোটি। তাঁদের অনেকে এক–দেড় মাস আগে নিবন্ধন করেও এখনো কোনো বার্তা পাননি।
রাজধানীর উত্তরার এক বাসিন্দা ও তাঁর স্ত্রী করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করেন গত ৯ জুলাই। নিবন্ধনের সময় টিকাকেন্দ্র নির্ধারণ করেন কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারী হাসপাতাল। এরপর ৪১ দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কবে টিকা পাবেন, সে বার্তা (এসএমএস) এখনো পাননি।
রাজধানীর চারটি কেন্দ্রের সূত্রে জানা গেছে, একটি কেন্দ্রের টিকা দেওয়ার সক্ষমতা যদি হয় দেড় হাজার, তাহলে তার প্রায় অর্ধেক চলে যায় দ্বিতীয় ডোজ দিতে গিয়ে। দৈনিক টিকাদানের সক্ষমতা না বাড়িয়ে নিবন্ধন চলমান রাখলে অপেক্ষমাণ তালিকা দীর্ঘ হতেই থাকবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন ২৭টি কেন্দ্রে গতকাল পর্যন্ত টিকার অপেক্ষায় ছিলেন ৮ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রেই অপেক্ষমাণের তালিকা ৩০ হাজারের বেশি। সবচেয়ে বেশি অপেক্ষমাণ ছিল কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯২ হাজারের বেশি মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে।
নিবন্ধনের পর নিবন্ধনকারীর তথ্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এরপর কেন্দ্র দৈনিক সক্ষমতা অনুযায়ী মানুষকে টিকা নিতে আসার জন্য খুদে বার্তা পাঠায়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সফটওয়্যার ব্যবহার করে বার্তা পাঠানো হয়। কেন্দ্রগুলোর টিকা দেওয়ার সক্ষমতার চেয়ে নিবন্ধন বেশি হওয়ায় জটলা তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন ৩ কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৬ জন। তাঁদের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছেন ১ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫৪ জন, দুই ডোজ পেয়েছেন ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ১৯৬ জন। শুরুতে টিকার বয়সসীমা ছিল ন্যূনতম ৫৫ বছর। কয়েক দফা কমানোর পর এখন ২৫ বছর বয়সীরাও নিবন্ধন করতে পারছেন।
সূত্র : জনকন্ঠ