বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরের মানুষের উপকারে আসছে না দিরাইয়ের জগদল ২০ শয্যা হাসপাতাল। উদ্বোধনের ৭ মাস পরও হাসপাতালের অন্তবিভাগ চালু হয় নি। জনবল শূন্যতায় অকার্যকর হয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। জরুরি ও বহির্বিভাগ চলছে এক ডাক্তার ও এক ব্রাদার দিয়ে। আর কোন স্টাফ নেই এই হাসপাতালে।
২০০৬ সালে দিরাইয়ের জগদল বাজারের পাশে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের জন্য জমি অধিগ্রহণ, পাঁচটি পাকা ভবন, পাম্প হাউস, গ্যারেজ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর এটির উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই-শাল্লা) সাংসদ তৎকালীন মন্ত্রী প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা চিকিৎসক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। কিন্তু ওই সময় এটি আর চালু হয় নি।
উদ্বোধনের প্রায় ৮ বছর পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই হাসপাতালের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। জগন্নাথপুরের ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ভাটি এলাকা এবং পূর্ব দিরাইয়ের ৪০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য এই হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল।
এই হাসপাতাল উদ্বোধনের আগে এখানে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, চারজন জুনিয়র কনসালটেন্ট, একজন সহকারি সার্জন, ৬ জন নার্স, একজন মেডিকেল ল্যাব টেকনেশিয়ান, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন অফিস সহকারী এবং একজন অফিস সহায়কের পদ সৃজন করা হয়।
উদ্বোধনের দিন ডা. মো. হাসানুর রহমান চৌধুরী নামের একজন মেডিকেল অফিসার যোগদান করলেও ওই দিনই তিনি বিকালে রিলিজ নিয়ে চলে যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্তিতে রয়েছেন এই ডাক্তার। তার বেতন এই মাস থেকে হবে জগদল হাসপাতালের নামেই।
ডা. হাসানুর রহমান চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বললেন, সুনামগঞ্জের জগদল হাসপাতালে যোগদানের আদেশেই আমার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্তির কথা উল্লেখ ছিল। এই কয়মাস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেই বেতন হয়েছে জানিয়ে এই ডাক্তার বললেন, এই মাস থেকে জগদল হাসপাতালের নামেই বেতন হবে। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই কাজ করবো।
২০ শয্যার জগদল হাসপাতালের ভরসা এখন ডা. কুশল চক্রবর্তী এবং ব্রাদার লবকুশ ¯œাল। কুশল ও লবকুশের চেষ্টাতেই জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের দরজা খোলা থাকছে হাওরপাড়ের এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের।
স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী দিনে এই হাসপাতালে চার জন ডাক্তার ও চার জন নার্স পদায়ন করা হয়।
ডাক্তার চার জন হলেন, ডা. মো. হাসানুর রহমান চৌধুরী, ডা. কুশল চক্রবর্তী, ডা. স্বপন সরকার ও ডা. দেলোয়ার হোসেন।
ডা. মো. হাসানুর রহমান চৌধুরী ওইদিনই রিলিজ নিয়ে চলে যান। ডা. দেলোয়ার সম্প্রতি প্রশিক্ষণে চলে গেছেন। ডা. স্বপন সরকারকে সম্প্রতি দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। চার জনের নার্সের তিনজনই ইতিপূর্বে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন।
ডা. কুশল চক্রবর্তীর বাড়ি হাসপাতাল পাশর্^বর্তী জগদল গ্রামে। তিনি এখনো আছেন। তার চেষ্টায়ই কোনরকমে হাসপাতালটির জরুরি ও বহির্বিভাগের দরজা খোলা আছে।
ডা. কুশল চক্রবর্তী বললেন, জনবল শূণ্যতায় কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এখানে অন্তবিভাগ বা শয্যা চালু করতে হলে দুইজন ডাক্তার, ৪ জন নার্স, দুইজন ওয়ার্ডবয়, একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং একজন আয়া প্রয়োজন। পর্যায়ক্রমে মেডিকেল টেকনোলজিস্টও লাগবে। ব্লাডসুগার জানতে বা বুকের এক্সরে’র জন্যও দিরাই হাসপাতালে পাঠাতে হয়। ঢাল -তালোয়ার ছাড়া নিধিরাম সর্দারের মতো এখানে আছি আমরা। একজন ব্রাদার এবং আমি কোনভাবে বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগ চালু রেখেছি।
গ্রামের ছেলে সাবেক যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমান বললেন, ভাটির প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য এই হাসপাতালটি চালু হয়েছে। এক কোটি টাকার বরাদ্দে হাসপাতাল ভবনের সংস্কার ও মেরামত কাজ হচ্ছে। হাসপাতালের অন্তবিভাগের ২০ শয্যা চালু করার জন্য বাজেট বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায় নি। আমরা চেষ্টা করছি, শীঘ্রই পাওয়া যাবে আশাকরছি। বাজেট পেলেই হয়তো শয্যা চালু হয়ে যাবে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন আহমদ বললেন, নিয়োগ সাপেক্ষ জগদল হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পথ্যের দরপত্র হবে, অন্তবিভাগও চালু হবে।
- এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নিয়োগে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন: টিআইবি
- বিশ্বম্ভরপুরে বসতবাড়ীতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রশিক্ষণ


