কর্মস্থলে না থেকেও নিচ্ছেন বেতন

পিসি দাশ, শালা
শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে অফিস ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত বেতন নিচ্ছেন। মাঝে মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া নিয়োগের নির্ধারিত তারিখে ঢাকা থেকে শাল্লায় আসেন। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েই আবার ঢাকায় চলে যান তিনি। তার দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও কার্যত কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বেপোরোয়া হয়ে পড়েছেন এই কর্মকর্তা।
এদিকে, শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, শাল্লা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এমন আচরণের জন্য উপজেলা মাসিক সভায় বার বার আলোচনা হচ্ছে, এমনকি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে মাসিক সভায় রেজুলেশন সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করাও হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাধিকবার এই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে র্উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কোনোও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অথচ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন নিচ্ছেন ও বহাল তবিয়তে ঢাকায় অবস্থান করছেন। গত ১৭ই মার্চ কর্মস্থলে থাকলেও পরে আর তাকে উপজেলায় দেখা যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাধিকবার রেজুলেশনের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে সুপারিশ করেছেন। কিন্তু এর কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ করা হয়নি। এই দুর্নীতিপরায়ণ অফিসার কাউকেই পরোয়া করছেননা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজিজুর রহমান ২০১৮ সালে যোগদান করার পরপরই মাসে ২/৪ দিন উপস্থিত থাকতেন। গত ১৭ই মার্চ থেকে অনুপস্থিত তিনি । মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারীদের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নথিপত্র পাঠানো, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ করা, শিক্ষাভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প তদারকি, উপবৃত্তি প্রদানসহ নানা কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, আমি একটু বাহিরে আছি। দু’য়েকদিন পর অফিস করব।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আজিজুর রহমানকে নিয়ে আমরা বিব্রত হচ্ছি। মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুফল পাওয়া যায় নি।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শাল্লার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।