ধর্মপাশা প্রতিনিধি
নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমানকে বিপাকে ফেলতেই ৯ মাস ধরে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন সাবিনা নামের এক কার্ডধারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবিনার স্বামী রতন মিয়া ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে সাবিনার পক্ষে অক্টোবর মাসের ভিজিডির চাল সংগ্রহ করার সময় এমনটি জানান এবং ভুল বুঝাবুঝির মধ্য দিয়ে অন্যের প্ররোচণায় এমন অভিযোগ করায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সাবিনা ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা রতন মিয়ার স্ত্রী। গত জানুয়ারি মাসে পাইকুরাটি ইউনিয়নের অধীনে সাবিনার নাম ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় আসে। কিন্তু সাবিনা গত ১১ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৯ মাস ধরে ভিজিডির চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এমনকি তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন তার (সাবিনা) নামে ভিজিডির কার্ড বরাদ্দ হয়েছে সেটিও জানেন না তিনি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। রতনের মামাতো ভাই জুলহাস মিয়ার স্ত্রী (আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল) সাবিনার কাগজপত্র নিয়ে সাবিনার নামে ভিজিডির কার্ড করে এবং বরাদ্দের চাল সেই চাল জুলহাসের স্ত্রী শুরু থেকে উত্তোলন করে আসছে। এ বিষয়টি ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আর্শাদ মিয়া নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি রতনের সাথে জুলহাসের পরিবারের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং রতন জুলহাসের পরিবারকে কার্ড ফিরিয়ে দিতে চাপ দেন। জুলহাসের পরিবার কার্ড ফেরত না দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সেই সুযোগে সাবিনাকে কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমানকে বিপাকে ফেলতে একটি চক্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করান।
এ নিয়ে রতন মিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভুল বুঝাবুঝির মধ্য দিয়ে বিষয়টি ঘটে গেছে। চাল পেয়েছি। চেয়ারম্যান বা মেম্বারের প্রতি কোনো অভিযোগ নাই।’
পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান বলেন, ‘আমাকে বিপাকে ফেলতেই একটি চক্র সাবিনাকে দিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করিয়েছিল। সত্য কোনোদিন চাপা থাকে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সুরাহা হয়েছে বলে শুনেছি।’


