ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
‘সাবেক এক নম্বর ওয়ার্ডে জগলুল হায়দারের চেয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নূরুল হক কম ভোট পাবেন। আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে এক নম্বরে (সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড) তাঁর (জগলুল হায়দার) গ্রহণযোগ্যতা বেশি। এখানে ভোট কম পেয়ে নূরুল হকের (আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান) যে ঘাটতি হবে সে ঘাটতি পূরণ করতে পারবেন সাবেক তিন নম্বর (সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড) ওয়ার্ডের ভোট দিয়ে। সেখান নূরুল হকের ভোটের সংখ্যা বেশি হবে। গত পাঁচ বছরের কাজ আর জনসম্পৃক্ততা দিয়ে এ ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন তিনি। তবে, চূড়ান্তভাবে কে পড়বেন বিজয়মাল্য এই মুহূর্তে সে কথা বলা মুশকিল। এটা নিশ্চিত যে, জয় পরাজয় নির্ধারণ হবে সাবেক দুই নম্বর ওয়ার্ডের ভোটের মাধ্যমে।’ বুধবার বিকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে বাতির আলীর চায়ের দোকানে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এভাবেই ভোট বিশ্লেষণ করছিলেন কয়েকজন সাধারণ ভোটার। আলোচনায় দু’জন দিনমজুর, একজন রিকশা চালক, পরিবহণ শ্রমিকও ছিলেন। ছিলেন একজন নৈশ প্রহরীও।
এতো শুধু পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের একটি মাত্র চায়ের দোকানের চিত্র। এমন চিত্র এখন শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি হাট-বাজার, পয়েন্টের চায়ের দোকানগুলোতে। শুধু চায়ের দোকান নয়, যেখানেই মানুষজন জমায়েত হচ্ছেন সেখানেই শুরু হচ্ছে নির্বাচনী আলোচনা। শুধু যে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়েই আলোচনা হচ্ছে তা কিন্তু নয়, আলোচনায় রসদ যোগাচ্ছেন সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থীরা। বাদ যাচ্ছেন না সংরক্ষিত আসনে মহিলা পদপ্রার্থীরাও। কে হবেন আগামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কার যোগ্যতা কতটুকু, কে পারবেন সুষ্ঠুভাবে পরিষদ পরিচালনা করতে তা নিয়েও হচ্ছে সরব আলোচনা। বর্তমান চেয়ারম্যানদের সফলতা-ব্যর্থতার ‘ফিরিস্তি’ নিয়েও হচ্ছে তোরজোড় আলাপ। সব আলাপের একটাই উদ্দেশ্য, যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে চলতি মাসের ২৮ তারিখ। মনোনয়ন পত্র জমাদানের পর ১১ তারিখ শেষ হবে প্রত্যাহারের সময়। ১২ নভেম্বর শুক্রবার উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে দেওয়া হবে প্রতীক বরাদ্দ। তার আগেই উপজেলার আনাচে-কানাচে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। চলছে ভোটের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। করছেন উঠান বৈঠক। কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। চলাচলের ক্ষেত্রে অনেক প্রার্থী আচরণেও এনেছেন অনেক পরিবর্তন। প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার জন্য জেলা উপজেলা থেকে মাঠে নেমে কাজ করছেন আওয়ামীলীগ-বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা। প্রতীক পাওয়ার আগেই অনেক প্রার্থী আবার প্রতীক দিয়েও করছেন প্রচারণা। একারণে নির্বাচন কার্যালয় থেকে দেওয়া হচ্ছে শোকজ নোটিস। প্রতিউত্তর দিচ্ছেন প্রার্থীরাও। সব মিলিয়ে দশম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম শান্তিগঞ্জ উপজেলা পথঘাট।
উল্লেখ্য, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৮ ইউনিয়নে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন ৪৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এছাড়াও সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৩৫১ জন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে (মহিলা) ৯৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।


