‘গুলশান-শোলাকিয়া হামলায় জড়িত আরও ৮ জন শনাক্ত’

সু.খবর ডেস্ক
গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ জিয়াউল হক, নিহত তামিম আহমেদ চৌধুরী ও মারজান ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত আরও আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের প্রধান (সিটি) মনিরুল ইসলাম। এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম জানান, তারা তামিম চৌধুরীকে প্রায় এক বছর ধরে খুঁজছিলেন। তবে একাধিক জঙ্গি হামলায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে গত ফেব্রুয়ারিতে। এরপর কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানার নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুলিশ তার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়।
তিনি জানান, শনিবারের অভিযানে নিহত ফজলে রাব্বীর বাড়ি যশোরে। যশোরের পুলিশ তাকে নিয়ে নিখোঁজের পোস্টার ছাপিয়েছিল। নিহত আরেকজন তাহজিদ হাসান বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ধানমন্ডি থেকে নিখোঁজ ছিল।
রামপাল নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা হান্নান শাহ’র
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ বন্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি মাঠে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ।
রবিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম-৭১ কেন্দ্রীয় কমিটি এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
শনিবার গণভবনে রামপাল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রামপাল বিরোধীদের  উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের জবাবে হান্নান শাহ বলেন,‘আপনি বলেছেন রামপালের বিরোধীতা করলে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া হবে। তাহলে কি আপনি যেখানে থাকেন (গণভবন) সেই বাড়ি কি জেনারেটর দিয়ে চলবে। তাহলে আমরাও জেনারেটর দিয়ে চলবো। বাংলাদেশে তো বিদ্যুৎ এমনিতেই ২০ ঘণ্টা থাকে না। আর চার ঘণ্টা বন্ধ করলে কিছু হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন,‘আমরা জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করবো।দেখি আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারেন কিনা।’
হান্নান শাহ বলেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। কিন্তু সরকার এরপরও যদি রামপালে বিদ্যুৎ নির্মাণ করে তাহলে আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদে রাজপথে নামবো।
তিনি আরও  বলেন,আপনি (প্রধানমন্ত্রী) অর্ডার দিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বানাতে পারবেন, কিন্তু সুন্দরবন বানাতে পারবেন না।তাই রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যাবে না। এর প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দিলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা সাত টাকার বালু চৌদ্দ টাকা এমনকি সতের টাকায় বিক্রি করছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কারণে রামপালকে ইস্যু করেছে এবং বলছে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করবেন।
নারায়ণগঞ্জে তামিম চৌধুরীসহ সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি অভিযানে নিহতের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে এদের জীবিত ধরতে পারতো। পরে এদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যেত।আমরা পত্র পত্রিকায় যা দেখছি তাতে অনেকে সন্দেহ করছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন ধরণের তথ্য দেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন,কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম তামিম চৌধুরী ভারতে।সে কিভাবে নারায়ণগঞ্জে চলে আসলো। আবার আমাদের সালাউদ্দিন ছিল ঢাকায় কিন্তু হঠাৎ করে সে চলে গেলো ভারতে। এ কেমন মোজেজা বুঝতেছি না।
সত্যিকার অর্থে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পদক সরিয়ে করবেন কী। আপনারা যাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন তাদের অনেকেই তো জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। সুতরাং মূল কাজটাই তো আপনাদের লোকজন করে ফেলেছে। স্বাধীনতা পদক নিয়ে কি করবেন। জানতে চাইলে একটা একটা করে নাম বলবো কারা কারা এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।যারা পরবর্তিতে আওয়ামী লীগের এমপি, মন্ত্রী ও  সুবিধাভোগ করেছে। আর আপনারা (আওয়ামী লীগ)তো জিয়াউর রহমানকে অপছন্দ করবেনই কারণ তিনি গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। সম্পূর্ণ নিরপক্ষে সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। তখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ চালাবে।
ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এতে জাপগা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, শাম্মী আখতার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।