১৫ ইউনিয়নে আ.লীগের ২৬ বিদ্রোহী

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে শুক্রবার নির্বাচনী প্রতীক পেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। এই দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে ১৫ ইউনিয়নে নির্বাচন করছেন ২৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। দলের প্রার্থীর বিজয় ঠেকাতে এরাই শেষ পর্যন্ত কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের ভোটাররা। আগামী ২৮ নভেম্বর এই দুই উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে নির্বাচন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. মনির উদ্দিন। দলের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন মো. আব্দুছ সালাম (ঘোড়া)।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোকছুদ আলী। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন দলীয় নেতা মো. আব্দুল কাদির (আনারস)।
কোরবাননগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. শামস উদ্দিন, আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলীয় নেতা মো. আফজাল নুর (আনারস) ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. কোহিনুর আলম (টেবিল ফ্যান)।
মোহনপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শীতেশ রঞ্জন দাস তালুকদার, দলীয় নেতা মো. মঈন উল হক ( মোটর সাইকেল) ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বি আছেন।
কাঠইর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মো. বুরহান উদ্দিন, মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে আজিজুর রহমান তালুকদার ও ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মো. আব্দুল মতিন।
সুরমা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মো. আব্দুস ছাত্তার, চশমা প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন দলীয় নেতা আমির হোসেন রেজা ও আনারস প্রতীক নিয়ে তাজুল ইসলাম।
গৌরারং ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ছালমা আক্তার চৌধুরী, চশমা প্রতীক নিয়ে ভোটে নেমেছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মোছা. চম্পা বেগম, এবং মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে আছেন সারুয়ার আহমেদ।
শান্তিগঞ্জের ৮ ইউনিয়নের সব কয়টিতেই বিদ্রোহীরা লড়ছেন। এরমধ্যে শিমূলবাঁক ইউনিয়নে দলের প্রার্থী মিজানুর রহমান জিতুকে চ্যালেঞ্জ করে ভোটে আছেন আব্দুল্লাহ মিয়া (চশমা) ও শাহীনুর রহমান (আনারস)।
জয়কলস ইউনিয়নে দলের মনোনীত মো. মাসুদ মিয়ার সঙ্গে বিদ্রোহী হিসাবে লড়ছেন- দলীয় নেতা আব্দুল বাছিত সুজন (ঘোড়া), হাছান মামুদ তারেক (মোটর সাইকেল), রাজা মিয়া (টেবিল ফ্যান) ও আব্দুল লতিফ কালা শাহ (অটো রিক্সা)।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দারের সঙ্গে বিদোহী প্রার্থী হয়েছেন- দলীয় নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক (আনারস)।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী রাশিকুল ইসলামের সঙ্গে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন দলীয় নেতা কামাল হোসেন (মোটর সাইকেল) ও জয়নাল আবেদীন (টেবিল ফ্যান)।
দরগাপাশা ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী মনির উদ্দিনের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন দলীয় নেতা মাছুদুল হাসান (আনারস)।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে ভোটে লড়ছেন দলীয় নেতা মো. মসফিকুর রহমান (ঘোড়া) ও রুবেল মিয়া (আনারস)।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট দেবাংশু শেখর দাশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, দলের নেতা সফিকুল ইসলাম (মোটর সাইকেল) ও শামছুল আলম ভুইয়া (আনারস)।
পাথারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামছুল ইসলাম রাজাকে লড়তে হচ্ছে দলীয় নেতা শহীদুল ইসলাম (ঘোড়া) ও হারুনুর রশীদ তালুকদারের (অটোরিক্সা) সঙ্গে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, দলে থেকে দলের মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে যারা ভোটে লড়ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, অনেক ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর নামের তালিকা পাঠাতে বা সুপারিশ করতে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। এ কারণে কোন কোন স্থানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, তৃণমূলে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, কর্মীও বেড়েছে। তবে নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীদের দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।