স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল দূরের কথা, হেঁটেও চলা দায়। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।
উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ৩ লক্ষাধিক মানুষ এই সড়কে চলাচল করেন। বিগত বছর শুষ্ক মৌসুমে জিপ, লাইটেস, মোটরবাইকসহ সব ধরনের যান্ত্রিক গাড়ি এ সড়কে চলাচল করতো। কিন্তু এ বছর সড়ক মেরামত না করায় প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে।
উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে তাহিরপুর সদর, বালিজুড়ি, শ্রীপুর দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন হাওর এলাকায় অবস্থিত। বর্ষাকালে হাওরপাড়ের সবাই নৌকাযোগে বাদাঘাট বাজারে আসা যাওয়া করে। হেমন্তকালে সাধারণত হাওরপাড়ের লোকজন হেঁটে কিংবা মোটরবাইকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে থাকে।
তাহিরপুর বাজারের সবব্জি ব্যবসায়ী অমিত দাস বলেন, আমি বাদাঘাট বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে এনে তাহিরপুর বাজারে বিক্রি করেন। বর্তমানে সবজি কিনে সড়ক পথে পরিবহন করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। মালামাল নিয়ে আসার পথে ৫ কিলোমিটার সড়কের ১০ স্থানে উঠানামা করতে হয়। সড়ক চলাচলের উপযোগী না করলে ব্যবসা—বাণিজ্যের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
উপজেলা সদরের উজান তাহিরপুর গ্রামের অটোরিক্সা চালক সবুজ মিয়া বলেন, বাদাঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে তাহিরপুরে রওয়ানা হয়েছিলাম। উয়নার ঘাট সেতু থেকে নামতে গিয়ে অটোরিক্সা উল্টে যায়। ভাগ্যক্রমে আমি ও যাত্রীরা আহত হইনি। তিনি সড়ক দ্রুত মেরামতের জন্য তিনি প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবীর বলেন, তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়ক উড়াল সেতু প্রকল্পের আওতায় এসেছে। এ বছর সড়কে পরিবীক্ষণের কাজ শুরু হবে। চলাচলের জন্য শিগগিরই মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কটি উড়াল সড়কের আওতায় এসেছে। সম্প্রতি একনেক সভায় এটি অনুমোদন হয়েছে। শীঘ্রই এ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।


