স্টাফ রিপোর্টার
এবার শাল্লার হবিবপুর ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন হেফাজতের বির্তকিত নেতা মামুনুল হককে সমালোচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জেলে যাওয়া ঝুমন দাস। রোববার (৫ ডিসেম্বর) তিনি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার আলমগীর কবীর খান এর কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
চতুর্থ দফায় ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে শাল্লা উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে নির্বাচন আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ ডিসেম্বর, আপিল ১৩- ১৫ ডিসেম্বর, আপিল নিষ্পতি ১৮ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ১৯ ডিসেম্বর ও প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২০ ডিসেম্বর সোমবার।
ঝুমন বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনে একজন প্রার্থীর হয়ে মাঠে কাজ করেছি। তখন সাধারণ মানুষকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, নির্বাচনের পাঁচ বছরে মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তা করতে পূরণ করতে পারি নি। কারণ আমি চেয়ারম্যান ছিলাম না। তাই আমার দেয়া প্রতিশ্রুতির অসমাপ্ত কাজ এবার নিজে চেয়ারম্যান হয়ে পূরণ করতে চাই।
তিনি জানালেন, রোববার উপজেলায় এসে চালান ফরম কিনে ৫ হাজার পাঁচশ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। এরপর সমবায় অফিস থেকে প্রার্থীতার জন্য মনোনয়ন ফরম কিনে এনেছেন। ইতিপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বাড়ির খাজনা পরিশোধ করেছেন।
ঝুমন দাস বললেন, তার মনোনয়ন বাতিল করার জন্য একটি মহল কাজ করছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কোনো কারণ হতে পারে না। কারণ নির্বাচন করার অধিকার নাগরিক অধিকার।
শাল্লা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. রেজাউল করিম বললেন, নির্বাচনে সকল প্রার্থী আমাদের কাছে সমান। যারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিধি অনুযায়ী আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে।
শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২১ হাজার ৯১২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ২৩ জন ও নারী ভোটার ১০ হাজার ৮৮৯ জন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।
এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন দিরাইয়ের পার্শ্ববর্তী উপজেলা শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের যুবক ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।
মামুনুলের সমালোচনাকে ইসলামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তার অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ঝুমন দাসের বাড়িসহ নোয়াগাঁও গ্রামের ৯০ টি বাড়ি, মন্দির ভাংচুর করে।
এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।
বিচারিক আদালতে কয়েক দফা জামিন নাকচের পর ২৩ সেপ্টেম্বর জামিন পান ঝুমন।


