ভিজিডির তালিকায় স্বজনপ্রীতি

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলা জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২১-২০২২ ‘ভিজিডি’ কর্মসূচি ও খাদ্যবান্ধব ‘ফেয়ারপ্রাইস’ কর্মসূচির তালিকায় স্বজনপ্রীতি করে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ওয়ার্ডের একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভিজিডি কর্মসূচির তালিকায় রয়েছেন স্বচ্ছল পরিবারের অনেকেই। এরমধ্যে একজন মোছা. হাসিনা আক্তার ও তার ভাই মো. মোস্তফা কামাল। তিনি সরকারি চাকুরি করেন। তাঁর বাড়ি মঙ্গলকাটা গ্রামে। ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিবের আপন শালী মোছা. হাসিনা আক্তার।
এছাড়া মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং একই পরিবারের কামরুন নাহার শিউলী। তিনি ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিবের আপন ভাগ্না বউ।
মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুশ শহীদ, পিতা ছাহেদ আলী। তিনি ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিবের আপন শালা। তিনিও দীর্ঘদিন যাবত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. হামিদা বেগম ভিজিডি’র উপকারভোগী। তার স্বামী দুদু মিয়াও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করে আসছেন। ইউপি সদস্যের নিকটতম আত্মীয় দুদু মিয়া। তারা একই পরিবারে দুইজন খাদ্যবান্ধব ও ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী।
মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা শাহানা, তার স্বামী একজন ব্যাংকার, পিতা ডিডরাইটার আব্দুল লতিফ। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করে আসছেন শাহানা।
মঙ্গলকাটা গ্রামের লোকমান আলী, পিতা আদম আলী। লোকমান আলী ঢাকায় গাজী কোম্পানির একজন কর্মকর্তা। তাঁর স্ত্রী সালেহা খাতুন বনগাঁও চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুলের অফিস সহকারী। সালেহাও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগী। গ্রামে বছরে এক বা দুইবার আসেন লোকমান আলী।
আদম আলী নিজেই লজ্জিত ভিজিডি’র তালিকায় পরিবারের সদস্যদের নাম থাকায়, তিনি বলেন, আমি স্বচ্ছল ব্যক্তি, পরিবারের দুই ছেলে বিদেশে আছেন। আমাকে না জানিয়ে আমার পরিবারের লোকজনের নাম দরিদ্র তালিকায় দেয়ায় আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিব বলেন, সকল নাম আমি দেই নি। সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য দিয়েছেন, চেয়ারম্যানও দিয়েছেন, চেয়ারম্যানের প্রতিনিধিও দিয়েছেন। কে এসব নাম দিল, আমি জানি না। তিনি বলেন, গরিব মানুষকেই দিতে পারি না, ধনী মানুষকে কিভাবে দেওয়া যায়।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকশেদ আলী বলেন, গরিবের সহায়তা স্বচ্ছলদের জন্য নয়। ইউপি সদস্য এই তালিকা করেছেন, তাকেই এর দায় নিতে হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার (ইউএনও) বললেন, যেসব স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, তদন্ত করে তা বাতিল করা হবে।