ভোটে গরম পৌষ

জগন্নাথপুর অফিস
ঘনিয়ে আসছে ভোটের দিন। পৌষের শীতে জগন্নাথপুরের গ্রামীণ জনপদ গরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী তাপে। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে।
জগন্নাথপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে বইছে ইউপি নির্বাচনের উচ্ছল হাওয়া। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা শীতের রাতে নির্বাচনী উঠান বৈঠক করছেন। শীতকে উপেক্ষা করে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হয়ে গরম করছেন নির্বাচনী সভাকে। প্রতিদিন কোনো না কোনো প্রার্থী সন্ধ্যারাত থেকে শুরু করে গভীর রাত উঠান বৈঠক, সভা করছেন। যাচ্ছেন বাড়ী বাড়ী ভোটারের দ্বারে দ্বারে।
স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, প্রত্যেক দিন সন্ধ্যার পর প্রার্থীদের নির্বাচনী সভা, উঠান বৈঠক কিংবা প্রচার কাজ এই শীতের সন্ধ্যা রাত থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত এই আয়োজন হচ্ছে। এসব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন আগেই স্থানীয়দের জানিয়ে দেওয়া হয়। লোকজন সভাস্থলে এসে উপস্থিত হয়ে আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তুলেন। প্রার্থী ও বক্তাদের বক্তব্যে করতালির মাধ্যমে গরম করে তুলেন তাঁরা। এসব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত লোকজনকে যার যার সাধ্য অনুয়ায়ী আপ্যায়ন করা হয়।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালি গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থী সমর্থকদের প্রচারণায় উৎসবমুখর হয়েছে নির্বাচনী এলাকা। পৌষের এই শীতে প্রতিদিন গ্রামের কোনো কোনো বাড়ীতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা রাতে উঠান বৈঠক সভা করছেন। এসব অনুষ্ঠানে লোকজন শীতকে উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে গরম করছেন শীতকে। এছাড়াও মধ্যরাতেও প্রার্থী ও তাঁদের পক্ষের লোকজন দলবেঁধে বাড়ী বাড়ী এসে প্রচারণা করছেন বলে তিনি জানান।
সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবুল হাসান জানান, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার কাজ করছি। দিনের বেলা লোকজন বিভিন্ন ব্যস্ত থাকেন। তাই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা সন্ধ্যারাতে উঠান বৈঠক করছি। শীত উপেক্ষা করেই সম্মানিত ভোটাররা এতে যোগ দেন। এতে করে একধরনের উৎসব বিরাজ করে।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথপুরের সাতটি ইউনিয়নে আগামি ২৬ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ৩৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ২৩৪ জন মেম্বার প্রার্থী এবং সংরক্ষিত পদে ৮৯ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।