জগন্নাথপুর অফিস
বয়সের ভারে শরীরটা ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। চলাচলের ক্ষমতাও হারিয়ে গেছে। এমনকি চোখে যা একটু দেখা হয় সেটাও অস্পষ্ট। তারপরও চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আত্মীয় শরিফুলের কোলে চড়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছিলেন নব্বই বছর বয়সী বৃদ্ধা পরিবান বিবি।
রবিবার বেলা ১১টায় জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ৯নং জমাত উল্লাহ আটপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন তিনি।
ঘিপুরা গ্রাম থেকে ভ্যানে করে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে আত্মীয়ের কোলে করে ভোটকক্ষে যান। তার অবস্থা দেখে কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অন্যদের থেকে আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেন।
বৃদ্ধা পরিবান বলেন, জীবনের শেষ সময় এসে এক আত্মীয়র কোলে চড়ে ভোট দিলাম। আর ভোট দিবার পারমু কিনা আল্লাহ ভালো জানে। শরীলডা আর চলে না। তারপরও ভোট দিচি।’
আত্মীয় শরিফুলের বলেন, বাড়িতে গিয়ে মেম্বার প্রার্থীরা জোরাজোরি করছিলেন উনাকে নিয়ে যেন ভোটটা দিয়ে আসি। তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। ভ্যানে করে কেন্দ্রে নিয়ে আসি। এরপর কোলে করে কক্ষে গিয়ে ভোট দিয়ে দিলাম।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মুজিবুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জগন্নাথপুরের সাতটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এসব ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭০ হাজার ২শ ৪৯ এবং নারী ভোটার ৬৯ হাজার ৮শ’ ২৩ জন। মোট কেন্দ্র ৭৭ টি।
এদিকে নির্বাচনে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


