ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জে নতুন বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) বই বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, দাখিল মাদ্রাসাসহ ২৯৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় চল্লিশ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী বই পাবে।
গত বছরের মতো এবছরও কোভিড ১৯ বা করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় এনে বই উৎসব করেননি সরকার। প্রথমদিন উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়েছে। অপরদিকে প্রাথমিক পর্যায়ের সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বই তুলে দিয়েছেন স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। মাদ্রাসায় ইবতেদায়ী ১ম ও ২য় শ্রেণিতে এবং দাখিলে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতেও বিতরণ করা হয়েছে নতুন বই।
উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক (মাদ্রাসাসহ) শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, দাখিল মাদ্রাসাসহ প্রায় ২শ ৯৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে প্রাথমিকে সরকারি ৯৭টি, পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি ১২টি, কিন্টার গার্টেন ৯টি ও বিভিন্ন এনজিও কর্তৃক পরিচালিত প্রায় ১৫০টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এ বছর পর্যায়ক্রমে নতুন বই পাবেন। অপরদিকে মাধ্যমিকে মাদ্রাসা আছে ৬টি। মাধ্যমিক স্কুল ২০টি। স্কুল-মাদ্রাসা মিলিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সব শ্রেণির প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী এ বছর বই পাবেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা মিলিয়ে দুই পর্যায়ে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী বই পাবেন। ইতোমধ্যে যে সব শিক্ষার্থী বই পেয়েছেন তারা অত্যন্ত খুশি, আনন্দে আত্মহারা।
এ বছর পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজে লটারির মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন মুখসানা রহমান ঐশী। বৃহস্পতিবার নতুন ১৪টি বই হাতে পেয়ে সে বেজায় খুশি। আনন্দ প্রকাশ করে ঐশী বলেন, নতুন বই আমার খুব পছন্দ। বই নিয়েই আগে কবিতাগুলো মুখস্থ করে ফেলবো। বছরের প্রথম দিন আমাদের হাতে বই তুলে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আক্তাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. মো. ময়নুল হক ও আলমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী বলেন, নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া যেমন আমাদের জন্য আনন্দের অন্যদিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি আনন্দের। নতুন বই দিতে পেরে আমরা খুশি।
এ ব্যপারে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, সরকারি, বেসরকারি, এনজিও এবং কিন্ডার গার্টেন মিলিয়ে প্রাথমিকেই আমাদের প্রায় ২৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। আমরা প্রথম দিন থেকে বই দিতে শুরু করেছি। সব স্কুলেই তাদের চাহিদা অনুযায়ী বই দেওয়া হয়েছে। সবাই নতুন বই পাবে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার পুরকায়স্থ বলেন, মাধ্যমিকে আমাদের প্রতিষ্ঠান ২৬টি। মাদ্রাসাসহ শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি মধ্য দিয়ে বই বিতরণ শুরু করেছি। বাকী ক্লাসের বই হাতে পাওয়া মাত্রই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেব।


