মধ্যনগরে ভোট দিয়ে সড়কের দুঃখ ঘুচাতে চান ভোটাররা

বিশেষ প্রতিনিধি ও এনামুল হক
স্কুলের সঙ্গে (ভোট কেন্দ্রের সঙ্গে) গ্রামের সড়ক হবে, এই আশায় দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে এসেছেন রেশমা বেগম (২৬)। তিন বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে আধা ঘণ্টার পথ হেঁটে ভোটে এসেছেন তিনি। জোর কদমে আসায় হাফাচ্ছিলেন এই গৃহবঁধু। বললেন, ‘পছন্দের প্রার্থীরে ভোট দিতাম আইছি, জিতলে সড়ক কইরা দিবা কইছইন তাইন’।
রেশমা জানালেন, সকাল ৮ টায় ভোট কেন্দ্রে এসেছেন, বৃদ্ধা শাশুরিও তার সঙ্গে এসেছেন। এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, তবুও ভোট দিতে পেরে খুশি তিনি।
শুধু রেশমা বেগম নয়, মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের গড়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউনিয়নের হরিণাকান্দি গ্রাম, চান্দালীপাড়া, আমলীতলা গ্রামের ভোটাররা এমন কষ্ট করে এসেছেন। কুয়াশায় ঢাকা সকালে শীতে জবুথবু হয়ে ফসলি জমির মাঝ দিয়ে পায়ে হেঁটে ভোট কেন্দ্রে আসছিলেন ভোটাররা।
দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের সবচেয়ে অবহেলিত হরিণাকান্দি, চান্দালীপাড়া, আমলীতলা গ্রাম। এবারের ভোটের প্রচারণায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সকলেই অবহেলিত এই গ্রামগুলোর সঙ্গে স্কুলের যোগাযোগ সড়ক করার আশ^াস দিয়েছেন।
এজন্য এসব গ্রাম থেকে ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন।
হরিণাকান্দি গ্রামের ভোটার সবুজ মিয়া বললেন, প্রার্থীরা আশা দিয়েছেন চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হলে গ্রামের মানুষের চলাচলের সড়ক করে দিবেন। আমরা কষ্ট করে পায়ে হেঁটে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে এসেছি, বিজয়ী হলে আশা করি কথা রাখবেন তিনি।
চান্দালীপাড়া গ্রামের ভোটার নুরুল হক বললেন, নির্বাচন এলে ভোটের জন্য প্রার্থীরা আশ^াসের ফুলঝুড়ি গলায় ঝুঁলিয়ে রাখেন, নির্বাচন পরেই শেষ। ইউনিয়নের তিন গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা এতোই খারাপ, এখানে কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে যেতেই তার আরও খারাপ অবস্থা হয়। এবার যিনি নির্বাচিত হবেন, সড়ক না করলে আগামী নির্বাচনে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করবো তাকে।
আমলীতলা গ্রামের ভোটার রহমতুন বেগম বললেন, সড়ক না হলে ৫ বছর পরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসবো না। এইবারই শেষ আসা।
দক্ষিণ বংশিকু-া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে, এই তিন অবহেলিত গ্রাম। ওখানকার বর্তমান ইউপি সদস্য ফেরদৌস মিয়া ফোন রিসিভ না করায়, গ্রামগুলোর যোগযোগ সড়ক কেন হচ্ছে না এই বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
দক্ষিণ বংশিকু-া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিম মাহমুদকে এই তিন গ্রামের যোগাযোগের এমন অবস্থা কেন, জানতে চাইলে বললেন, গেল ৫ বছর বাজেট না পাওয়ায় সড়কের কাজ করা যায় নি। এবার নির্বাচিত হলে এই তিন গ্রামের যোগাযোগ সড়ক হবে।