তিন প্যাকেট ব্যালট পেপার উদ্ধার, এলাকায় উত্তেজনা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তিনদিন পর একটি কেন্দ্র থেকে ব্যবহৃত তিন প্যাকেট ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে ঘুলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে এসব ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। ঘুলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ধর্মপাশা থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট রিটার্র্নিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট পেপারগুলো হস্তান্তর করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত বুধবার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ঘুলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ করা হয়। ওই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক তপন কান্তি তালুকদার।
এদিকে গত শনিবার সকালে ঘুলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বিদ্যালয়ে যান ক্লাস শেষ করে ফিরে আসেন। পরদিন অর্থ্যাৎ রবিবার সকালে তিনি অফিস কক্ষ পরিস্কার করতে গিয়ে দেখেন নির্বাচন কমিশনের সিল সম্বলিত প্যাকেট অফিসের এককোণে পড়ে আছে। তিনি বিষয়টি সাথে সাথে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেন। পরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে তিনি বিষয়টি ইউএনওকে অবগত করেন। বিকেলে ঘুলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ধর্মপাশা থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট রিটার্র্নিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তপন কান্তি তালুকদারের কাছে ব্যালট পেপারগুলো হস্তান্তর করেন।
ওই ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সেলিম রাজা চৌধুরী, বিদ্রোহী প্রার্থী মোকাররম হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনায়েদ চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী মোকাররম হোসেন ৫৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সেলিম রাজা চৌধুরী।
সেলিম রাজা চৌধুরী বললেন, এই কেন্দ্রে ৯৪ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। যা অবিশ^াস্য। এখানে নষ্ট হওয়া ভোট গননা করে চশমা বিজয়ী দেখানো হয়েছে। আমি ঢাকায় রয়েছি, এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, ভোট আবার গননা হলে নৌকাই বিজয়ী হবে।
অপরদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী মোকারম হোসেন বললেন, সকলের সামনে ভোট গননা হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলেন না। স্কুল খোলার তিনদিন পর এই নাটক সাঝানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আত্মীয়-স্বজন নৌকার পক্ষে নির্বাচনে সক্রিয় ছিলেন, এই কেন্দ্রে নৌকা ২৬৪, আমার প্রতীক চশমা ৪৮৬ এবং ঘোড়া ৫৯ ভোট পেয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধারে ভূমিকা রেখেছি। বিষয়টি প্রিজাইর্ডিং কর্মকর্তা বিস্তারিত বলতে পারবে।’
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তপন কান্তি তালুকদার বলেন, ‘ব্যালটগুলো প্যাকেটে ছিল। এগুলো রয়ে গেল কীভাবে বুঝতে পারছি না।’
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বললেন, কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে শুনে কেন্দ্রে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, ব্যালট পেপার সীল গালা করে থানায় জমা রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত. এই ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী মোকারম হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিসের সমন্ধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত।