পরিবেশ ধ্বংসকারী বোমা মেশিন ধ্বংস

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে ধোপাজান চলতি নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ১০টি ড্রেজার মেশিন মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত ৬টি ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে। এছাড়াও ৪টি ড্রেজার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় রাখা হয়েছে। এছাড়াও ডলুরা ক্যাম্পের পাশে স্তূপাকারে পাথর জব্দ করে বিজিবির জিম্মায় রাখা হয়েছে। জব্দ করা পাথর পরবর্তীতে প্রকাশ্যে নিলাম দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
টাস্কফোর্স অভিযানে অংশ নেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ, সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর, বিশ^ম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল হোসেন, সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
সদর উপজেলা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চলতি নদীতে সব ধরনের বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু ব্যক্তি বোমা মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ এবং নদীর পাড় কেটে বালু পাথর অবৈধ ভাবে উত্তোলন করছে। এমন খবরে গোপনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় চলতি নদীর জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়েরগাঁও নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চারটি সেলুমেশিন নৌকাসহ এবং আরো ছয়টি বোমা মেশিন আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ার জানান, চলতিনদীর দু’পাড় কেটে অসাধু চক্র বালু পাথর উত্তোলন করে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই প্রতিমাসের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় চারটি বড় সেলু মেশিন নৌকা জব্দ ও আরো ৬টি বোমা মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। এসময় তিনি আরো জানান. এর আগে আরো তিনটি অভিযান পরিচালনা করা হয়, তখন প্রায় দুই কোটি টাকার বালু জব্দ করে নিলামে বিক্রি করা হয়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, ১০ টি ড্রেজারের মধ্যে ৬ টি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আরও ৪ টি স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে রাখা হয়েছে। এছাড়াও কিছু বালু জব্দ করা হয়। যা ডলুরা বিজিবি ক্যাম্পের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এগুলো নিলামে তোলা হবে।