ধর্মপাশা প্রতিনিধি
পঞ্চাশোর্ধ রহিজা বানু পেশায় একজন পান বিক্রেতা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি পান বিক্রি করে যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চালান। স্বামী সন্তান না থাকায় তিনিই তাঁর সম্বল। গত কয়েকদিনের টানা শৈতপ্রবাহে তাঁর ব্যবসা পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে ঠান্ডায় যেখানে ঘর থেকে বের হওয়াই দায় সেখানে তাঁর পক্ষে গ্রামে গ্রামে গিয়ে পান বিক্রি করা কষ্টসাধ্য। কিন্তু ঘর থেকে না বের হতে পারলে আয় রোজগার বন্ধ। ফলে ধর্মপাশা (মধ্যনগর) উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলীপুর ফকির বাড়ির বাসিন্দা রহিজা বানুকে পড়তে হয়েছে বিপাকে। শুধু রহিজা বানুই নয়, হাওরাঞ্চলের দিন এনে দিন খাওয়া প্রতিটি দরিদ্র মানুষই শীতের প্রকোপে মারাত্মক অসুবিধায় পড়েছেন। যদিও সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে সেই শীতবস্ত্রের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এছাড়াও বোরো ফসল পরিচর্যা কাজ মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে এমন শীত দীর্ঘস্থায়ী হলে বোরো ফসেলর ওপর প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সবজি ক্ষেতের ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
সম্প্রতি ধর্মপাশা এবং মধ্যনগর উপজেলার জন্য দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৩ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেই সব কম্বল কোনো কোনো ইউনিয়নে ইতোমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নে কম্বল পৌঁছানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রচন্ড শীতে হাওরাঞ্চলের শিশু ও বয়স্করা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই তাদের প্রতি বিশেষ যতœ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের জিনাইরা হাওরের কৃষক গোলাম হোসেন বলেন, ‘প্রচন্ড শীতের কারণে বোরো ফসলের পরিচর্যা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।’
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের শালকুমড়া হাওরের কৃষক সাবিকুর রহমান বলেন, ‘বোরো ফসলের পাশাপাশি গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে আছি। ঠান্ডায় গবাদী পশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল আহমেদ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ২০০ কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বরাদ্দ বেশি পাওয়া গেলে দরিদ্র মানুষেরা উপকৃত হতো।’
ধর্মপাশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) ডা. মিজানুর রহমান রনি বলেন, ‘শীতে বিশেষ করে শিশুরা সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হয়। ইদানিং বয়স্করাও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই শিশু বয়স্কদের বিশেষ যতœ নিতে হবে।’
ধর্মপাাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘শীত দীর্ঘস্থায়ী হলে বোরো ফলসের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সবজির বাড়-বাড়ন্তি কম হবে।’
ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘তিন হাজারের মতো কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা ইতোমধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে। শীতের প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হলে কম্বলের চাহিদা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হবে।’


