ট্রাক্টর, ট্রাক, পিকআপের মাধ্যমে সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে মাটি পরিবহনের প্রবণতা বেড়ে গেছে। সড়ক ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। বিশেষ করে এলাকার প্রধান যাতায়াত সড়কে যে যেমন ইচ্ছা চলাফেরা করতে পারে না। কিন্তু কে শোনে কার কথা? যদৃচ্ছা চলার নীতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি আমরা। ফলে ট্রাকে করে সড়ক দিয়ে মাটি পরিবহন করতে যেয়ে মূল সড়কটিকেই যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলছি তা তলিয়ে দেখছি না কেউ। সমস্যা হচ্ছে মূল্যবান এই সড়ক নিরাপদ রাখার দায়িত্ব যাদের তারাও তেমন কোন পাহারাদারি করেন না। একটি সড়ক নির্মাণ করতে সরকার কত টাকা খরচ করে। এই সড়ককে ভাল রাখার দায়িত্ব সকলের। কিন্তু ভাল রাখা দূরের কথা কতভাবে সড়ককে বেহাল অবস্থায় ফেলে দেয়া যায় তারই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে যেন সর্বত্র। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের খাড়াই এলাকায় জনৈক মাটি ব্যবসায়ী যথেচ্ছভাবে মাটি পরিবহন করছিলেন। পরিবহন কালে ট্রাক থেকে ছিটকে প্রচুর মাটি পড়ে সড়কের উপর। সড়কের আস্তরণ ঢেকে দেয় মাটির আস্তরণ। গত সপ্তাহের বৃষ্টিপাতে এই মাটির আস্তরণ তৈরি করে কর্দমাক্ততা। কর্দমাক্ত রাস্তা স্বভাবতই পিচ্ছিল হয়ে উঠে। যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কের এমন অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সংবাদের তথ্য অনুসারে সড়কের ওই স্থানে গত শুক্রবার প্রায় অর্ধ শত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। স্থানীয় কিছু তরুণ সড়কের ওই পিচ্ছিল অংশে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে মোটরসাইকেল চালকদের সাবধানে যাতায়াতের পরমার্শ দিচ্ছিলেন। অথচ যে মাটি ব্যবসায়ী, সংবাদে যাকে কৈতকের আমজান হোসেন বলা হয়েছে, তিনি একেবারেই নির্বিকার। যেন ব্যস্ত এই সড়ককে পিচ্ছিল করার জন্য তার কোন দায় নেই।
শুধু আঞ্চলিক মহাসড়ক কেন, ছোট-বড় সকল সড়কেই মাটি, বালি, ইট-পাথর যেমন ইচ্ছা তেমন করে পরিবহনের ফলে সড়কের করুণ অবস্থা তৈরি হয়ে জনভোগান্তির চিত্র এখন সর্বত্র। জেলা শহরের যেকোন মহল্লায় গেলে এমন দুর্বিসহ অবস্থা দেখা যায়। এইসব মাটিবাহী ট্রাক-ট্রাক্টরের তা-বে মানুষের চলাচল এখন দায় হয়ে উঠেছে। এরা একদিকে সড়ক নষ্ট করছে অন্যদিকে মানুষ ও যানবাহনের ভোগান্তি তৈরি করছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো ফাও পাওনা। আশ্চর্যের বিষয় হলোÑ এই বেপরোয়া কর্মকা- ঠেকাতে কারও কোন তৎপরতা চোখে পড়ে না। দিনের বেলা শহরের সড়কে ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ বলে আমরা জানি। কিন্তু এমন কোন দিন পাওয়া যাবে না যেদিন দিনের বেলা এমন মাটি-বালুবাহী ট্রাকের দেখা মিলে না। সড়কের দেখভাল করার দায়িত্ব পালনকারী কর্তৃপক্ষ সব ক্ষেত্রে অন্ধ থাকার নীতি অবলম্বন করছেন।
এই ধরনের সড়ক-বিনাশী জনদুর্ভোগ তৈরিকারী কর্মকা- অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। যেখানে যে সড়কের যে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত আছেন, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ; তারাই যেন নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে সড়কগুলোকে এমন অবাঞ্ছিত আগ্রাসন থেকে রক্ষা করেন সেই অনুরোধ আমাদের। প্রতিটি সড়কের একটি নির্ধারিত আয়ুষ্কাল থাকে। কিন্তু নির্ধারিত আয়ুষ্কালের আগেই সড়কগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠে। সুষ্ঠু সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এমনটি ঘটে থাকে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কগুলোর এমন পরিণতি কখনও কারও কাম্য নয়। এছাড়া মানুষ ও যানবাহনের জন্য সড়ককে নিরাপদ রাখাও সমান দায়িত্ব। অনাহুত আপদ যখন আমাদের সড়কগুলোকে ক্রমাগত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ করে তোলে তখন এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিকার গ্রহণ করা আবশ্যক বলে আমরা মনে করি। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের খাড়াই এলাকায় যে মাটি ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মাটি পরিবহন করে সড়কের ক্ষতি ও চলাচলকারী যান ও যাত্রীর ক্ষতি সাধন করেছেন তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
- এই কমিটির কাছে নাম দেবে না বিএনপি মির্জা ফখরুল
- ‘ব্র্যাক’ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক দাতা সংস্থা ‘হ্যান্স ব্র্যান্ডস ইনক’ কর্তৃক মাস্ক হস্তান্তর

