সর্বোত্তম ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হোক নতুন নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশনারদের নাম প্রস্তাবের জন্য গঠিত অনুসন্ধান কমিটির কাছে ৩২২ জনের নাম জমা পড়েছে। রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে এই নামগুলো প্রস্তাবিত হয়েছে। অনুসন্ধান কমিটি নামগুলো গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। প্রকাশ করেছে এজন্য যে দেশের মানুষ নামগুলো জানুক। এ নিয়ে আলোচনা হোক। অনুসন্ধান কমিটির উদ্দেশ্য ভাল নিঃসন্দেহে। কিন্তু ১৮ কোটি মানুষের দেশে ৫ জন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, যাদের নিয়ে কোন বিতর্ক তৈরি হবে না, বের করা কি সহজ কাজ? অনুসন্ধান কমিটি নিশ্চয়ই জানেন এভাবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তারপরেও তাঁদের এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, তাঁরা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও পরিস্কার মন নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছেন। শুরুতেই অনুসন্ধান কমিটির এই পদক্ষেপটি বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বলা যেতে পারে, তাঁরা শুরুতেই মানুষের ন্যূনতম আস্থা অর্জনের জায়গায় কিছুটা এগিয়ে থাকলেন।
নির্বাচন কমিশন সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা বলে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কালে জনপ্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি কমিশনের অধীনে ন্যস্ত থাকেন। কমিশন যাকে যেমন ইচ্ছা নির্বাচনী দায়িত্ব দিতে পারেন। কমিশনের অভিপ্রায় অনুসারে দায়িত্ব পালন করা নির্বাচনকালীন গণপ্রশাসনের দায়িত্ব। এত ক্ষমতা থাকার পরেও আমাদের নির্বাচন কমিশনগুলো কেন জানি নিজেদের ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটাতে কিছুটা জড়তা অনুভব করেন। গত ২টি নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিভিন্ন মহলের রয়েছে বহু অভিযোগ। এই অভিযোগের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, অন্যতম বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও স্বজোটভুক্তরা নুতন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাঁরা রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপে যেমন অংশ নেননি তেমনি অনুসন্ধান কমিটি আহুত নাম প্রস্তাবের বেলায়ও নিশ্চুপ থেকেছেন। তারা বরং নতুন নির্বাচন কমিশনের চাইতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বেশি তৎপর ও আগ্রহী। তাদের সাফ কথা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন যে ধরনেরই হোক না কেন, তাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। আর তাই তারা দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তারা তাই তাদের যাবতীয় কর্মতৎপরতা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার উপরই বজায় রেখেছে। দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক জোটের নির্বাচন কমিশন নিয়ে এমন নেতিবাচক অবস্থানের পিছনে বিগত কমিশনের দৃঢ়তার অভাবকেই মুখ্য কারণ হিসাবে দেখতে চাইছেন সকলে। নির্বাচন কমিশন সত্যিকার অর্থে যদি সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতার প্রয়োগ করে একটি ভাল নির্বাচন অনুষ্ঠানের সদিচ্ছার পরিচয় দিতে পারে তাহলেই কেবল এই ধরনের নেতিবাচক মূল্যায়নের জায়গা থেকে রেহাই পেতে পারে।
আওয়ামী লীগ পরিস্কারভাবে নির্বাচনকালীন ভিন্ন সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সংবিধানে এখন এমন কোন সরকার ব্যবস্থা চালু করার কোন সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির সংলাপে যেসব রাজনৈতিক দল আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং যারা অনুসন্ধান কমিটির নিকট কমিশনের জন্য নাম প্রস্তাব করেছে তাদের সকলকেই চলমান ব্যবস্থায় নির্বাচন করতে ইচ্ছুক বলে ধরে নেয়া যায়। বলাবাহুল্য এই রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান কোনভাবেই দুর্বল নয়। সুতরাং বিএনপি জোটের দাবিটিকে কোনভাবেই পুরো দেশের সকল জনগোষ্ঠীর একক দাবি ভাবার কোন অবকাশ নেই। এরকম এক বিপরীতমুখী অবস্থায় যে নির্বাচন কমিশন গঠন হতে যাচ্ছে তাদের যে অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
অনুসন্ধান কমিটিকে তাই সবদিক বিবেচনায় নিয়ে এমন ব্যক্তিদের নামই প্রস্তাব করতে হবে যাঁরা জাতীয়ভাবে অধিকাংশ মানুষের কাছে শ্রদ্ধাভাজন ও ইতিবাচকভাবে বিবেচিত রয়েছেন। সামনের কয়দিন এ নিয়ে আরও ব্যাপকভাবে আলাচনা হবে। এইসব আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বোত্তম ব্যক্তিরাই কমিশনের জন্য প্রস্তাবিত হোন তাই আমরা চাই।