বীর নিবাস নির্মাণ পাবেন সকল বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা-মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলার ৭ জন মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়েছে। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ছাতক উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রমা রানী দাস, দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমিলা দাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছা. কুলসুম বিবি, দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলেক জান বিবি, সদর উপজেলার তেহরিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসন্তী ধর, সদর উপজেলার অচিন্তপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গুলবাহার ও সদর উপজেলার দক্ষিণ আরপিননগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা পিয়ার চান কে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সুনামগঞ্জ প্রান্তে এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অসীম চন্দ্র বনিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এজেএম রেজাউল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন হতে ৬৪ টি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, সম্মাননাপ্রাপ্ত দেশের ৬৫৪ জন মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ক্রেস্ট/ সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয়, শাড়ী ও স্যুভেনিয়র প্রদান করা হয়। এতে ভার্চুয়ালি সকল জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। রাজধানী ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ৬৫ জন মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এবং বাকিদের জেলা প্রশাসকগণ তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট জেলার মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রেস্ট/ সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয়, শাড়ী ও স্যুভেনিয়র প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে মুজিব বর্ষের থিম সং এবং মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবময় ও সংগ্রামী জীবনের উপর নির্মিত গীতিআলেখ্য পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। এছাড়া একই মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
অনুষ্ঠানে সকল বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জেলা, উপজেলাসহ দেশের বিশেষায়িত হাসপাতালসমূহে চিকিৎসা, ওষুধ, টেস্ট যা প্রয়োজন তার সবই প্রদান করা হচ্ছে।
মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়ার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের জায়গায় শিশু পার্ক নির্মাণ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নির্দিষ্ট স্থান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে সংরক্ষণ করতে চাই। যেখানে মানুষ গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারবে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব স্থানে যুদ্ধ হয়েছিল, সেসব স্থান আমরা সংরক্ষণ করছি। বধ্যভূমিগুলোও আমরা সংরক্ষণ করছি। এ ছাড়া যদি কোন মুক্তিযোদ্ধা মারা যান তাদের একই রকম ডিজাইনের কবর দেয়া হবে, যেন ৫০ বছর পরেও একটি কবর দেখে বোঝা যায়, এটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর।’
এসময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু থেকেই সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা এবং আত্মসম্ভ্রম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরজ্জ্বোল দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের আত্মত্যাগ অপরিসীম। বিধবা হতে পারে জেনেও স্ত্রীরা স্বামীদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে। পুত্রহারা হতে পারে জেনেও মায়েরা পুত্রদেরকে রণক্ষেত্রে পাঠিয়েছে। নির্যাতিত হতে পারে জেনেও কন্যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে ও জাতীয় পর্যায়ে একসাথে দেশব্যাপী মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান করা হয়নি। এবারই আলাদাভাবে বাংলাদেশের সকল মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একই দিনে, একই সময়ে, একই সাথে সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।