সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জে পুলিশের ‘নির্যাতনের’ ঘটনায় নিহত উজির মিয়ার বাড়িতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামে নিহত উজির মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে গ্রেফতারের সময় প্রত্যক্ষদর্শী মা, স্ত্রী, শিশু মেয়ে ও চাচাত বোনের সাথে একান্তে দীর্ঘ সময় কথা বলেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাতক থানার সার্কেল বিল্লাল হোসেন, পশ্চিম পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার, শান্তিগঞ্জ থানার ওসি কাজী মুক্তাদীর হোসেন সহ পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
উজির মিয়ার চাচাত ভাই গোলাম মোস্তফা জানান, অতিরিক্ত ডিআইজি উজিরের বাড়িতে এসে তার পরিবারের স্বজনদের সাথে একান্তে আলাপ করেছেন। এসময় উজির মিয়ার মা বানেছা বেগম অতিরিক্ত ডিআইজিকে জানিয়েছেন, নয় ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২ টায় কয়েকজন পুলিশ এসে তার ছেলে উজির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়, উজির মিয়া দরজা দিয়ে বের হবার সময়ই একজন পুলিশ টর্চ লাইট মাথায় আঘাত করে। কিল-ঘুষি মারতে থাকে। তারা পায়ে হাতে ধরেছিলেন, কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে জানতে চেয়েছিলেন, তাকে লাথি দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয় কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে পরে জানতে পারবে। তিনি জানান, অতিরিক্ত ডিআইজি পরিবারের সকলের বক্তব্য শুনেছেন, উজির মিয়াকে গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে থানা, হাসপাতাল, আদালত সবকিছু সমন্বয় করে মূল বিষয় উদঘাটন করে তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ আইনী ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ^াস দিয়েছেন তিনি।
সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার বললেন, উজির মিয়ার পরিবারের সদস্যগণসহ যাদের সঙ্গে কথা বলা যায় সকলের সঙ্গেই কথা বলেছেন তারা। চলমান তদন্তের অংশ হিসাবেই এটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, নয় ফেব্রুয়ারি রাতে শান্তিগঞ্জ থানার এস আই দেবাশীষ, এস আই পার্ডন কুমার সিংহ ও এস আই আক্তারুজ্জামানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গরু চুরির অভিযোগে উজির মিয়াকে নিজ বাড়ি শত্রুমর্দন থেকে আটক করেন। ওই দিন গভীর রাতে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে জামিন নিয়ে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বাড়িতে আসার পর উজির মিয়ার শারিরিক অবস্থার অবনতি হয়। ২১ ফেব্রুয়ারী সুনামগঞ্জের কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ওখানেই ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর উজির মিয়ার লাশ পাগলাবাজার এলাকায় সড়কে রেখে পুলিশি ‘নির্যাতনে’ তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জ সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রায় তিন ঘন্টা অবরোধ করে রেখেছিলেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের ও পুলিশে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেবার মেয়াদ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিার।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার-উল-হালিম জানিয়েছেন, তারা রিপোর্ট দেবার জন্য আরও তিন কার্যদিবস অর্থাৎ মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। পুলিশ সুপারের করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির কাজও এখনো চলছে।


