তিন আসামির আরো তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর

স্টাফ রিপোর্টার
জগন্নাথপুরে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) গণধর্ষণ ও ৬ টুকরো করে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির আরো ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার জগন্নাথপুরের আমল গ্রহণকারী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন, জগন্নাথপুরের অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ, মুদি মালের দোকানদার অনজিৎ গোপ ও অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপ।
আসামীদের আরও তিনদিনের রিমান্ডে নেবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিপি খায়রুল কবির রুমেন।
এর আগে তিন আসামিকে ৮ দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডির) পরিদর্শক লিটন দেওয়ান রোববার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেক আসামীকে আরো ৩ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তিন আসামিকে সিআইডি তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ফার্মেসিতে ওষুধ আনতে গেলে জগন্নাথপুরের সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শুইয়ে রাখে জিতেশ চন্দ্র গোপ। শেষে গভীর রাতে ফার্মেসির ভেতর এনার্জি ড্রিংকস খেয়ে তিন আসামী তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করার কথা বলায় শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরা করা হয় জ্যোৎস্নার। পরে লাশ গুমেরও পরিকল্পনা করে ধর্ষকরা। এ ঘটনার পর রাজধানী ঢাকা ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জ্যোৎস্নার খুনী তিন ধর্ষককে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানতে পারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিকেল হল থেকে শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই হেলালউদ্দিন বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজ মালিকানাধীন বাসায় ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী ছরকু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন।