টিকা নিয়েছেন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। টিকা নিতে আগের থেকে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তির কথাও বলেছেন অনেকে। সিভিল সার্জন বলছেন, জেলায় সরকারি লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা গেছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সকালে টিকা নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে টিকা নিতে আসা বেশিরভাগ মানুষ ছিলেন দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার জন্য। নারী পুরুষসহ শিক্ষার্থীদেরও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির কথা বলেছেন এই প্রতিবেদকের কাছে।
সিলেটের একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন আলমগীর হোসেন। শনিবার অফিস থেকে একদিনের ছুটি নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে এসেছেন তিনি। লাইনে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এন্ট্রি কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারেন আগে তিনি সিনোফার্মের টিকা নিয়েছিলেন। আজকে হাসপাতালে এই টিকা নেই।
আলমগীর বললেন, প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। ছুটি দিতে চায় না। অনেক কষ্ট করে একদিনের ছুটি নিয়ে এখানে টিকা নিতে এসেছি। এখন তারা বলছেন সিনোফার্মের টিকা নেই তাদের কাছে। পরে আসতে বললেন। তাই টিকা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছি।
বনানী পাড়ার বাসিন্দা নবী হোসেন বললেন, আজকে টিকা নিতে আসছি। মানুষের ভিড় বেশি। একঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।
তিনি আরও বলেন, এখানে একজন একজন করে কাগজ এন্ট্রি দিচ্ছেন। আরও কয়েকজন থাকলে এরকম ভিড় হতো না।
এদিকে করোনা প্রতিরোধে সারা দেশে শুরু হওয়া গণটিকা কর্মসূচি আরও দুইদিন বাড়িয়ে শনি— রোববার করা হয়েছে। মানুষের বিপুল আগ্রহ দেখে গণটিকার দেয়ার এই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের এক কোটি ভ্যাকসিন দেয়ার কার্যক্রমে সুনামগঞ্জে প্রথম দিন শুক্রবারে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। প্রথম দিনে ৮১ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ১৩ জনকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেছে।
এরমধ্যে ফাইজারের ২৬ হাজার ৬৫ জন ও সিনোভ্যাকের টিকা নিয়েছেন ১ লক্ষ ১১ হাজার ৯৪৮ জন। সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া গেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। সেখানে ২১ হাজার ১৯ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া গেছে। এছাড়াও সুনামগঞ্জ সদরে ১৪ হাজার ২০৪ জন, ছাতকে ১৬ হাজার ৬৮২ জন, দোয়ারাবাজার ১০ হাজার ৬৫৪ জন, বিশ^ম্ভরপুর ৯ হাজার ৭৮১ জন, তাহিরপুর ১৭ হাজার ৫২ জন, জামালগঞ্জ ৭ হাজার ৮৪২ জন, শাল্লায় ৫ হাজার ৯৮২ জন এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় ৯ হাজার ৩২ জনকে শুক্রবারে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেছে।
একই দিনে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যণীয়। এদিন এস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, সিনোভ্যাক ও ফাইজার নিয়েছেন জেলার ১০ হাজার ১৩৯ জন মানুষ। তবে সিভিল সার্জন অফিসে (রাত ১০ টা পর্যন্ত) রবিবারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন আহম্মদ হোসেন বললেন, প্রথম দিনে সরকারিভাবে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিলো এরচেয়ে বেশি মানুষকে আমরা ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পেরেছি। এরপর আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করছি যারা এখনও ভ্যাকসিনের আওতায় আসেন নি তাদেরকে শনি—বোরবারে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পারবো।