পিবিআইকে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট দেবার নির্দেশ আদালতের

স্টাফ রিপোর্টার
শান্তিগঞ্জে পুলিশের নির্যাতনে উজির মিয়া নামের এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট দেবার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআইকে) এর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার বিকালে মামলার বাদী উজির মিয়ার ভাই ডালিম মিয়ার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে এই আদেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার। এর আগে গত সোমবার দুপুরে উজির মিয়ার ভাই ডালিম মিয়া বাদী হয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছিলেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছিল সদ্য ক্লোজড হওয়া শান্তিগঞ্জ থানার সাবেক এসআই দেবাশীষ সূত্রধর ও শান্তিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার আলাউদ্দিনকে।
মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে রিপোর্ট দেবার জন্য আদালতের আদেশ দেবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, পিপি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন ও বাদীপক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. রবিউল লেইছ রোকেস।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রবিউল লেইছ রোকেস বলেন, ‘উজির মিয়াকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে আদালতে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত সোমবার মামলার আবেদন করেছিলাম। আদালত আজ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে রিপোর্ট দেবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ’
গত ৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে শান্তিগঞ্জের শত্রুমর্দনের উজির মিয়াকে গরু চুরির মামলায় বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় শান্তিগঞ্জ থানার পুলিশ। ওইদিন রাতে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। পরদিন উজির মিয়া জামিনে ছাড়া পান। বাড়িতে আসার পর উজির মিয়ার সারা শরীরে নির্যাতনের চিহৃ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর উজির মিয়াকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা দেবার পর কিছুটা সুস্থ্য হলে তাকে আবার বাড়িতে আনা হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে অসুস্থ্যতা বাড়লে ছাতকের কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ওখানেই ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে সুনামগঞ্জ—সিলেট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। গত ২২ ফেব্রুয়ারি উজির মিয়ার স্বজন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিতিতে ছুরুত হাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্ত শেষে মরহুমের লাশ দাফন করা হয়। ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের একটি ও পুলিশের পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। গত ২৭ অভিযুক্ত শান্তিগঞ্জ থানার এসআই দেবাশীষ সূত্রধরকে ক্লোজড করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।