বিস্যুদবারের বৈঠক : প্রথম প্রকাশনার পাঠ উন্মোচন হলো বৃহস্পতিবার

সাইদুর রহমান আসাদ
গেল বছরের অক্টোবর মাস। বৃহস্পতিবারকে কেন্দ্র করে কোনো সাহিত্য আড্ডা করার তাগিদ অনুভব করছিলেন কতিপয় সাহিত্যামোদী। ওই তাগিদ থেকেই শুরু বিস্যুদবারের বৈঠক। এর সঙ্গে যোগ দিলেন শহরের কিছু স্বপ্নবাজ মানুষ।
গত পাঁচ মাস ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরিতে সন্ধ্যা ৭ টায় বসে বিস্যুদবারের বৈঠক। বৈঠকে নতুন নতুন মানুষ যুক্ত হয়। শুরুতেই একজন সুতো ধরিয়ে দেন। পরে সেই সূত্র ধরেই দুই ঘন্টাব্যাপী আলোচনা জমে ওঠে। পূর্ব নির্ধারিত প্রবন্ধ বা কবি ইকবার কাগজীর সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া কোনো কবিতা। এরপরের আলোচনা সেই সূত্র থেকেই।
আকাশ সংস্কৃতি ও মোবাইল ইন্টারনেটের একচ্ছত্র আধিপত্যে কয়েক দশক থেকে জল-জোছনার শহর সাহিত্য চর্চা তেমন চোখে পড়ে না। সিলেবাস অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ের বাইরে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি পাওয়া যায় না। এই তরুণ প্রজন্মকে পড়ার প্রতি ঝোঁক ও নিয়মিত লেখালেখি করার অভ্যাস করানো বিস্যুদবারের বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য বিস্যুদবারের বৈঠক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছ’দিন পরপর সাহিত্য আড্ডার পাশাপাশি তিন মাস পরপর একটি সংকলন বের করা।
বিস্যুদবারের বৈঠক নামেই তাদের প্রথম সংকলন বের হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ১০ মার্চ সন্ধ্যা ৭ টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগারে বিস্যুদবারের বৈঠকের ফেব্রুয়ারির একুশের সংখ্যা- ২০২২ এর প্রথম প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়েছে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কবি সুখেন্দু সেন, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, কবি ইকবাল কাগজী, কবি কুমার সৌরভ, লোক গবেষক সুবাস উদ্দিন, সাংবাদিক খলিল রহমান, কবি এসডি সুব্রত, শিক্ষক মো. মশিউর রহমান, শিক্ষক অনুপ নারায়ণ তালুকদার, শিক্ষক আহমেদ নূর আলবাব সাহিত্যকর্মী রাখুরাজ চৌধুরী, সাংবাদিক আসাদ মনি প্রমুখ।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বললেন, একটি স্বপ্নের দুয়ার উন্মোচন হলো। অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া ‘বিস্যুদবারের বৈঠক’-এর প্রথম অধিবেশনে একটি সাহিত্য সংকলন প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। সে সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নই এই একুশে ফেব্রুয়ারি সংখ্যা। গত বৃহস্পিবার প্রকাশনার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর পাঠ উন্মোচন করা হলো। আমরা সংকলনটিকে নিয়মিত করতে চাই, অন্তত তিন মাসে নতুন একটি সংখ্যা বের করতে চাই। এজন্য মৌলিক লেখা প্রয়োজন। আশা করি সুনামগঞ্জের লেখক সাহিত্যিকরা এর নিয়মিত প্রকাশনার তাগিদটিকে বাস্তবে রূপায়ণ করতে পারবেন।
তাঁরা আরও বলেন, এই সুনামগঞ্জ থেকে একজন ঝর্ণা দাশ পুরকায়াস্থ’র জন্ম হলেও এখন তেমন সাহিত্য চর্চা দেখা যায় না। যতটুকু হচ্ছে সেটা যৎসামান্য। আমরা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে পাঠক ও লেখক হিসেবে দেখতে চাই। এর মাধ্যমেই চিন্তাশীল একটি সমাজ আমরা তৈরি করতে পারবো।
বক্তারা উল্লেখ করেন, আমাদের স্বপ্নের জায়গায় উদ্যোগ যদিও সামান্য তবুও আমরা শুরু করেছি একটি আয়োজন। যার নাম দেয়া হয়েছে বিস্যুদবারের বৈঠক। সাহিত্য আড্ডার পাঁচ মাস অতিক্রম করেছি আমরা। প্রথম একটি সংকলনও বের হয়েছে। এই সংকলনের সুন্দর প্রচ্ছদ করে দিয়েছেন তরুণ চারুশিল্পী আমাদের স্নেহভাজন ইরতিজা কাগজী ঈশা।