নেতা-কর্মীরা পরষ্পরকে সন্দেহের চোখে দেখেন-হানিফ

স্টাফ রিপোর্টার
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তেমনিভাবে দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশ উন্নয়শীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে। বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সবকিছুই হয়েছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শক্তি ও প্রাণ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের শক্তির উপর ভর করে আওয়ামীলীগ বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল না থাকলে আওয়ামী লীগের টিকে থাকা দুরূহ হয়ে যাবে।
রবিবার বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, কেন আমাদের সংগঠনটি বারবার হুচট খাচ্ছে তা কর্মীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। সংগঠনের কিছু চিত্র আমি পেয়েছি, যা আমার কাছে মনে হয়েছে দুঃখজনক। সবচেয়ে বড় যে সমস্যা, তা হলো এখানে নেতাকর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাসের ঘাটতি আছে। এখানে অনেকেই একে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখেন। অন্যকে আপন করে নেয়ার মতো মানুষের ঘাটতি আছে। এর ফলেই আপনাদের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। আমি আশা করি এই বর্ধিত সভার মধ্যে দিয়ে আমরা যে সিদ্বান্ত নেবো তা আপনারা সকলে অনুসরণ করবেন। আগামী জুন মাসের মধ্যে আমরা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন করবো। তবে তার আগে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলার সম্মেলন হবে। সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করবো। এই সুনামগঞ্জ এক সময় ব্ঙ্গবন্ধুর নৌকার ঘাঁটি ছিলো, আবারও সেই নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবে, এটাই আমার প্রত্যাশা। জাতীয় নির্বাচনের আর দুই বছর আছে। এর মধ্যে আমাদের সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে হবে। জনগণের মন জয় করে আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করার জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে, সেই লক্ষ্যে নিয়েই আজকে আমাদের এই সভা।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে নাম পাঠানো হয়। ১, ২, ৩ করে নাম দেয়া হয় তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে। কিন্তু জনগণের যে সার্ভে রিপোর্টটা আসে, সেই রিপোর্টটা অনেক সময় প্রার্থীর পক্ষে যায় না। তখন হয়তো যার নাম ১ নম্বরে দেয়া হয় তার পরিবর্তন হয়। আমরা আশা করি তৃণমূল পর্যায়ে যে ভুল বোঝাবুঝি আছে তা দূর হয়ে যাবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক বলেছেন, ‘আমাদের এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশকে যে জায়গায় আনা হয়েছে সেসব উন্নয়নের প্রচার নেই। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশকে অন্ধকারে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো। সেই অন্ধকার থেকে আলোর পথে দেশকে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন। আজকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। সেটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। আমাদের ঘরে বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিলো। আজকে সেখান থেকে আমরা ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবো। একসময় কখন বিদ্যুৎ আসবে সেজন্য মানুষ তাকিয়ে থাকতো। আজকে লোডসেডিং কী তা বাংলাদেশের মানুষ ভুলে গেছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। সকল শ্রেণির মানুষ যেনো লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য আমরা বিনামূল্যে বই দেই। জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে সেই জাতি সুদূরে যেতে পারে না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো হয়েছে। তুণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। করোনাকালে সারা পৃথিবী বিপর্যস্ত ছিলো। কিন্তু করোনা মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, সেটা আজ বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। ২০০৯ সালে আমাদের ফরেন রেমিটেন্স মাত্র ৭-৮ বিলিয়ন ডলার ছিলো। আজকে ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে। আমাদের রপ্তানী ছিলো ৮ বিলিয়ন ডলার যা এখন ৫০ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় ২৫৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গোটা বিশ্ববাসী আজকে অবাক হয়ে বলছে বাংলাদেশ কিভাবে উন্নয়ন করছে। উন্নয়নের রোল মডেল হচ্ছে বাংলাদেশ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্র্থর্াী দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কিছু কিছু সময় বৃহৎ স্বার্থে এটা করতেই হয়। আমিও এর ভুক্তভোগী। ৯৬ সালে আমি মাত্র ২৫-২৬ হাজার ভোট পাই। এরপর ২০০১ সালে প্রতিকূল অবস্থায়ও ১ লক্ষের উপর ভোট পেয়েছি। আমাকে সামান্য মার্জেন ভোটে পরাস্ত হতে হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ২০০৮ সালে কিন্তু আমাকে সে আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে এই জোটের কারণে। বৃহত্তর স্বার্থের জন্য নিজেদের ছোট স্বার্থকে ত্যাগ করতে হয়। কে কখন আসবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে যেকোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
বাজারমূল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, সাম্প্রতিকালে বাজারমূল্য নিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে। গত দুই বছর করোনায় বিশ্ব বিপর্যস্ত ছিলো। সে কারণে বিশ্ব বাজার এখনও স্থিতিশীল অবস্থায় আসেনি। সম্প্রতি ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়েও বিশ্ব বাজার উঠানামা করছে। এছাড়াও দেশের কিছু ব্যবসায়ী আছেন যারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন, কিছু হলেই দাম বাড়িয়ে দেয়। এরজন্য মানুষ কষ্টের শিকার হচ্ছেন। নেতাকর্মীদের বলবো কেউ যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মজুত করে তাহলে সেই তথ্য জানাবেন, কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন।