বৃষ্টিতে কৃষকের চোখে আনন্দের ঝিলিক

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
তাপদাহে কষ্টার্জিত একমাত্র বোরো ফলস জ্বলে লালচে হয়ে নষ্ট হচ্ছিল বৃষ্টির অভাবে। গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির জন্য হাহাকার চলছিল কৃষকদের মধ্যে। এমতাবস্থায় নামল স্বস্তির বৃষ্টি। এতে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠল জগন্নাথপুরের হাওরপাড়ের কৃষকদের চোখে—মুখে।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বৃষ্টি ও ঝড় বয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী এ বৃষ্টি ভিজিয়ে দিলো হাওরাঞ্চলসহ উপজেলার সর্বত্র।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার অন্যতম হাওর জগন্নাথপুরের সর্বৃহৎ নলুয়াসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরের বুকে বোরো ফসলের সবুজের সমরোহ ও কাচা ধানের শীষ দুলছে। গত কয়েকদিনের টানা খরতাপে ফসল জ্বলে লালচে হয়ে যাচ্ছিল। আবার চারা থেকে ধান বের হতে বিলম্ব হচ্ছিল। ফলে দুশ্চিতায় ভুগছিলেন কৃষকরা। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হওয়াতে খুশি হাওরপারের কৃষক। তাঁরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি হওয়ার কারণে দ্রুত ধান বের হবে। সপ্তাহ, দশের মধ্যে ধান পেকে যাবে।
নলুয়া হাওরের দাসনাগাঁও গ্রামের কৃষক হরেন্দ্র দাস জানান, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির জন্য কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দেয়। তাপদাহে ফসল জ্বলে যাচ্ছিল। চারা থেকে ধান বের হতে বিলম্ব হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টি হওয়ায় খুবই ভালো লাগছে। এবার তিনি ২৪ কেদার জমিতে রোরো আবাদ করেছেন। খরায় কিছু জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক অমিত দেব জানান, বৃস্টিতে কৃষকের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে নলুয়া হাওরের কয়েকটি বাঁধের স্লোপে বালিযুক্ত মাটি থাকায় কিছু কিছু স্থানে ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। মাটির কাজ শতভাগ শেষ হলেও এখনও কয়েকটি বাঁধেঘাষ ও স্লোপের কাজ পুরাপুরি শেষ হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, বৃষ্টিতে বাঁধের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বরং বাঁধের কনফেকশনের জন্য ভালো হয়েছে। তিনি জানান, জগন্নাথপুরে এবার ২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, এবার ২০ হাজার ৩০ হেক্টর বোরো জমিতে আবাদ করা হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ার ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে বাম্পার ফলন হবে। খরার কারণে কিছু চারা নস্ট হয়েছে। সেগুলো আমরা স্প্রে করায় আর কোনো সমস্যা হবে না। ৫৫ শতাংশ চারায় ধানের ফুল ধরেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।