স্টাফ রিপোর্টার
বিতর্কিত হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলার শহীদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াসহ ৭২ জনকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এই আদেশ দেন।
শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশের ফেসবুক আইডি থেকে হেফাজত ইসলামের বিতর্কিত নেতা মাও. মামুনুল হককে সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় হেফাজত ইসলামের সমর্থকরা গত বছরের ১৭ মার্চ হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা করে। হামলাকারীরা ৮৮ বাড়ি লুটপাট ও ভাংচুর করে। গ্রামের ৫ টি পারিবারিক মন্দিরও এসময় ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলো তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। তিন মামলায় গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হওয়াসহ ১২৫ জন আসামী ইতিমধ্যে আইনের আওতায় এসেছেন। হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের মামলার আসামী ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াসহ ৭২ আসামী আদালত থেকে অস্থায়ী জামিনে ছিলেন।
মঙ্গলবার গ্রামবাসীর পক্ষে হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুলের দায়ের করা মামলায় (জিআর ২০/২১) গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া চার্জশীটের উপর শুনানী ছিল। আদালত শুনানী শেষে অস্থায়ী জামিনপ্রাপ্ত ৭২ আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
কোর্ট ইন্সপেক্টর বদরুল আলম তালুকদার জানান, নোয়াগাঁওয়ে হামলার ঘটনায় দায়ের করা বিবেকানন্দ মজুমদারের মামলার চার্জশীটের শুনানী ছিল মঙ্গলবার। শুনানীকালে ১২৫ জন আসামি হাজির ছিলেন। এদের মধ্যে স্থায়ী জামিনসহ পুলিশ রিপোর্টে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় নি এমন আসামী ছিলেন ৫৩ জন। অন্য ৭২ জন আসামীকে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। এরা পুলিশ রিপোর্টর পূর্ব পর্যন্ত অস্থায়ী জামিনে ছিলেন।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. নজরুল ইসলাম বললেন, আদালতের রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী সন্তোষ্ট হয়েছেন। একই মন্তব্য করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. নিরঞ্জন তালুকদার।


