দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই সরকারি ডিগ্রী কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক পারভেজ রহমানের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক পারভেজ রহমান ঘটনার জন্য কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ককে দায়ী করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজের রাগীব আলী ভবনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী, ইউএনও মাহমুদুর রহমান মামুন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জরুরী কাজ থাকায় ইউএনও অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এর ৫ মিনিট পর কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক বিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা মারুফ আহমদ জয় ও মেহেদীসহ বহিরাগত কয়েকজন আইসিটি শিক্ষক পারভেজ রহমানের উপর হামলা চালায়। এসময় তারা বেশ কয়েকটি পুরস্কারসহ চেয়ার ভাংচুর করে ত্রাস সৃষ্টি করলে কলেজ প্রাঙ্গণে সাধারন শিক্ষার্থীরা আতংকে দিগ্বিদিক পালাতে গিয়ে কেউ কেউ আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার শিকার শিক্ষক পারভেজ রহমান জানান, অনুষ্ঠান প্রায় শেষের পথে, আমি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দিচ্ছিলাম। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ কলেজের শিক্ষকরা পাশেই ছিলেন। কোন কিছু বোঝার আগেই মারুফ আহমদ জয় ও মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায় পুরস্কার ও চেয়ার ভাংচুর করে।
কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক সজীবনুর বলেন, হঠাৎ করে স্যারের উপর হামলা শুরু করে জয়, মেহেদীসহ বহিরাগত কয়েকজন। ওরা স্যারের উপর পুরস্কারের গ্লাস দিয়ে ঢিল মারতে থাকে, আমরা কোনমতে স্যারকে আগলে প্রিন্সিপাল স্যারের কক্ষে নিয়ে যাই।
অভিযুক্ত মারুফ আহমদ জয় বললেন, এই শিক্ষক ভেতরে ভেতেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা দেন। মেয়েদেরকেও উত্যক্তা করার অভিযোগ আছে তার উপর। এজন্য ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান, অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল দিয়ে অতিথিদেরকে বরণ করা হয়। এসময় জয় ও মেহেদী বলয়ের কোন নেতাকে বলা হয় নি, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জয় ও মেহেদীর সমর্থকরা।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী জানান, আমি অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলাম। ইউএনও সাহেব চলে যাবার পর অনুষ্ঠান শেষে আমিও চলে যাওয়ার পথে, এমন সময় শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ধীমান কীর্তুনিয়া জানান, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, তেমন বড় ধরনের কিছু হয় নি। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না বলে তিনি জানান।
দিরাই থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, কলেজের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হৈ চৈ এর খবর পেয়ে এস আই মুদুলের নের্তৃত্বে একদল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মারধর এবং ভাংচুরের কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি।
- বাজেট বরাদ্দে প্রয়োজনীয়তার চেয়ে রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়: পরিকল্পনামন্ত্রী
- ঝুঁকিতে শালদিঘাসহ কয়েকটি হাওরের ফসল


