লতিবপুর হাওরের ২’শ এক জমির ধান হুমকির মুখে

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরের লতিবপুর হাওরের ২’শ একর জমির ধান হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাঠাবুকা, লতিবপুর ও আনন্দনগর গ্রামের কৃষকরা লতিবপুর হাওরে ধান চাষ করেন। হাওরটিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য গত দুই যুগ ধরে কৃষকরা দাবি জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি গত তিনদিন ধরে উজানের পানিতে পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকীর মুখে পড়েছে লতিবপুর হাওরের প্রায় দুইশত একর জমির ধান।
সম্প্রতি শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কৃষকদের সহযোগিতায় ছোট ছোট ক্লোজার নালাগুলো বন্ধ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের কিছু সহযোগিতা ছাড়া অন্য কোন সহযোগিতা পায়নি এ হাওর। ফসল রক্ষা বাঁধের জন্য সরকারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও বিগত দুই যুগ ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন উন্নয়নের ছেঁায়া লাগেনি এ হাওরে। হাওরের আপর থেকে এর উচ্চতা হবে ৯/১০ ফুট। ফলে সামান্য পানিতেই হুমকির সম্মুখীন হতে হয় লতিবপুর হাওরকে।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত পালা করে কৃষকরা বাঁধে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে রাতভর কঠোর পরিশ্রম করলেও কাজের কোন কূল কিনারা মেলেনি। নদীর পানি এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে যে কোন সময়ে হাওরটি পানির নীচে তলিয়ে যেতে পারে।
লতিবপুর হাওরের কৃষক পাঠাবুকা গ্রামের রিপছান হাবীব বলেন, লতিবপুর হাওরে পাঠাবুকা, লতিবপুর ও আনন্দনগর গ্রামের কৃষকদের ২’শ একর জমি রয়েছে। তার মধ্যে কৃষকরা প্রায় ১৮০ একর জমিতে ধান চাষাবাদ করেছে। হাওরটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কোন কাজ হয় না। এ জন্য কৃষকরা এ হাওরের আগাম ফসল উত্তোলনের জন্য ব্রি—২৮ ধানের চাষাবাদ করে। এবার নদীতে আগাম পানি আসায় কৃষকদের ফসল তোলা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাহিরপুরে শাখা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, লতিবপুর হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভূক্ত নয়। তাই তাদের পক্ষে ওই হাওরে কাজ করা সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, লতিবপুর হাওরটিতে সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। এমতাবস্থায় আমি কৃষকদের কান্না দেখে আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কোন রকমে হাওরটিকে টিকিয়ে রেখেছি। সরকার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিলে তিনি হাওরটিকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন বলেও জানান। লতিবপুর হাওরটিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নেওয়ার জন্য তিনি জোর দাবি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, লতিবপুর হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়। হাওরটির ফসল যাতে রক্ষা করা যায় সে ব্যাপারে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করেছেন। তারা প্রয়োজনীয় অর্থ দ্রুত বরাদ্দ প্রদান করবে বলেও তিনি জানান।