দিরাই সংবাদদাতা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে দিরাইয়ের বৈশাখী বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে বৈশাখী হাওর ও চাপতির হাওরের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা কাঁচা বোরো ফসল। একরাতে ব্যবধানে তলিয়ে গেছে হাওর পাড়ের একমাত্র সোনালী ফসল। ঝুঁকিতে রয়েছে দিরাইয়ের ১১টি হাওরের আরও ৭টি ক্লোজার।
গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় বৈশাখী ক্লোজার ভেঙ্গে যায়। বাঁধ ভাঙ্গার খবর গ্রামের মসজিদ থেকে ঘোষণা করা হলে কয়েক হাজার কৃষক একত্রিত হয়ে চেষ্টা চালালেও বাঁধ আটকানো যায়নি। এই বাঁধটির আওতায় দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়ন, করিমপুর ইউনিয়ন ও তাড়ল ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের ৪ হাজার পরিবারের জমি ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওরের চারপাশ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। নিরাশ হয়ে বাঁধের পাড়ে বসে আছে হাওরের কৃষকরা। এজন্য পিআইসির অতি লাভের আশা ও বাপাউবোর উদাসীনতাইকেই দায়ী করছেন ফসল হারানো স্থানীয় কৃষকরা।
কচুয়া গ্রামের মনোরঞ্জন দাশের রংজমা করা ১৫ কেয়ার বোরো ফসল চাপতির হাওরে তলিয়ে গেছে। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, একটি ধানের গোছাও কাটতে পারিনি, এখন খাবো কি? আর গরু ছাগলদের সারাবছর কি খাওয়াবো? প্রতিবছরই পাউবো কৃষকের ভাগ্য নিয়ে ছেলেখেলা করে। বড় একটি হাওর চাপতি অথচ এটি রক্ষার জন্য কোন বাঁধ দেয়া হয়নি। আজকে বাঁধ থাকলে চাপতির হাওরটি পানিতে ভাসতো না।
কচুয়া গ্রামের গোপীমোহন দাশ বলেন, পিআইসির কাজ শুরু হলে অফিস থেকে কিংবা পিআইসির কমিটির কেউ স্থানীয় কৃষকদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা করে না। তাদের ইচ্ছা স্বাধীন মতো মাটি ফেলার কাজ করে। যার কুফল আমাদের মতো অসহায় কৃষকদের ভোগ করতে হয়।
চাপতির হাওর উপ—প্রকল্পের পিআইসি নং—১৬ এর আওতায় ছিল বৈশাখী বাঁধ। স্থানীয় কৃষকরা বাপাউবোর দিকে অভিযোগ করে করে বলেন, চাপতির হাওরের জন্য আলাদা কোন হাওর রক্ষা বাঁধ দেয়া হয়নি। চাপতির উজানে বৈশাখী হাওরের জন্য একটিই মাত্র বাঁধ দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের অকাল বন্যায় হাওর তলিয়ে গেলে ২০১৮ সালে বাপাউবো দিরাই কলিয়ারকাপর থেকে চাতল পর্যন্ত হাওরের মাঝামাঝি একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিল যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মেরামত করা হতো। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে আর মেরামত করা হয়নি। কলিয়ারকাপন থেকে চাতল পর্যন্ত এই বাঁধটিই মূলত চাপতির হাওরের সীমানা নির্ধারণ করে।
ফসল হারানো স্থানীয় কৃষকগণ ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, অজানা কোন কারণে কলিয়ারকাপন থেকে চাতল পর্যন্ত চাপতির সীমানায় কোন বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। এই বাঁধটি থাকলে চাপতির হাওরের সাড়ে তিন হাজার হেক্টরের উপরে জমি পানিতে তলিয়ে যেতো না।
এ প্রসঙ্গে বাপাউবো দিরাই শাখার কর্মকর্তা ও উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, কলিয়ারকাপন থেকে চাতল সুইচগেইট পর্যন্ত এই বাঁধটি গেল দুইবছর যাবৎ দেয়া হয় না। চলতি অর্থবছরে কলিয়ারকাপন থেকে চাতল সুইচগেইট পর্যন্ত বাঁধটি আমাদের এলাইনমেন্টের আওতায় ছিল না।


