একমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্ব হতভাগ্য কৃষকের কান্না মুছে দিতে পারে

ইশতিয়াক রুপু
চলতি বছরে আবারো অসহায় কৃষকদের কপাল পুড়লো ভারত থেকে নেমে আসা অসময়ের বৃষ্টির জল। সীমান্তের অপর পাড় থেকে নেমে আসা ঢল কে আটকানো অথবা নিয়ন্ত্রণ করবার জন্য আমাদের যে প্রস্ততি ছিলো তা যথেষ্ট নয়। এসব মান্ধাতার আমলের প্রস্তুতি দিয়ে আধুনিক কালের প্রাকৃতিক জলদৈত্যকে কোন ভাবেই আটকানো যাবে না। তা দেশের সর্বোাচ সুবিধা নিয়ে সচিবালয়ের বসা কর্তা ব্যক্তিরা যেমন জানেন তেমনি জানেন স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসন ফসল রক্ষা কর্মসূচী কে বিশেষ নজর ও প্রাধান্য দিয়ে রেখেছেন বিগত কয়েক মাস যাবত। কিন্তু বিধি বাম। ভাটির দেশ বাংলাদেশ ভৌগোলিক ভাবে নাজুক অবস্থায় আছে শত সাল ধরে। আর আমাদের ফসল হারানোর কাহিনীর বয়স প্রায় সমান। এলাকার হতভাগ্য জনগণ প্রতি বৎসব বোরো ফসল নিয়ে যেন জুয়ার দান ধরে। আল্লাহের হুকুম আর বরুণ দেবতার ( বৃষ্টি দেবতা) ইচ্ছা আর অনুগ্রহের উপর নির্ভর করছে পুরো জেলার সিংহভাগ কৃষকের গৃহে ঈদের আনন্দ। কি নির্মম তামাশা। চৈত্রের মাঝামাঝি দিগন্ত হাওর জুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ। কৃষক আর কৃষাণী ঘরের দাওয়ায় বসে নিজ হাতে কষ্ট করে শরীরের ঘাম জড়িয়ে বোনা ফসলের মধ্যকাল দেখে আর স্বপ্নের জাল বুনে।
ঘরের চালে সৃষ্ট ফুটোকে বলে, দাঁড়াও আর মাত্র কয়টি দিন ! ফসল তুলে তোমায় ঠিক করে নেবো। পাশে দাঁড়ানো সোমত্ত মেয়েকে দেখে আর মনে মনে বলে, মা গো আর সময় নষ্ট করবো না। ক্ষেতে দোল দেয়া সবুজ ফসল যখন সোনালী হবে। ঠিক তখনই ধুমধাম করে তুলে দিবো কোন রাজপুত্রের হাতে। অথচ আজ কৃষক টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে হাউ মাউ করে কাঁদে আর বলে বাজান উজানের জলে আমার সব গেলো! আহার গেলো! স্বপ্ন গেলো! কি খেয়ে বাঁচব আসছে পুরো বছর। দিগন্ত জুড়ে সবুজ ফসল আজ অসময়ে নেমে আসা থৈ থৈ জলের নিচে।
ভাটি অঞ্চলের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবার নতুন নয়। দু এক বছর পর পর এই দৈত্য এসে বার বার ভেঙ্গে দিয়ে যাচ্ছ লক্ষ লক্ষ কৃষক আর কৃষাণীর স্বপ্ন। বছর কয়েক যাবত কৃষকদের সত্যিকার কল্যাণে বোরো ফসল বোনার সময় থেকেই একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ সংগঠন দিন রাত মাঠ পর্যায়ে থেকে দেখ ভাল করছেন। তারপরও বার বার পরাজিত হচ্ছেন অসময়ে আসা উজানের ঢলের নিকট। বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের সূত্র ধরে জানা যায় স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রণালয় শুরু থেকে বিশেষ নজর ও খেয়াল রেখেছিলেন। তারপরও ঘটে গেলো বিরাট সর্বনাশ। তবে আশার কথা শুনালেন স্থানীয় একজন করিৎকর্মা সাংসদকর্মী। তিনি একটি মন্তব্যের মাধ্যমে সুখবর দিলেন এই বলে, ভাই আমার এলাকার হাওর সমূহ সুরক্ষিত ছিলো। উজানের ঢলে আমার এলাকার কৃষককুল তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। যাক এতো এতো খারাপ খবরের মধ্যে এমন একটি সুসংবাদ সত্যি আশার খবর। একটি নিদৃষ্ট এলাকা যখন বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়ে গেলো, সে ক্ষেত্রে পুরো জেলার বাকি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষককুলের পাশে কে দাঁড়াবে ? প্রথমে সাংবাদিকগণ উনাদের মহান দায়িত্ব পালনে ছুটে গেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। বিপর্যয়ের প্রাথমিক খবরাখবর উনাদের মাধ্যমে সকল মহল পেয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে চটজলদি শুরু হয় সরকারের সকল স্তরের সার্বিক তৎপরতা। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয় ছুটে এলেন জেলা শহরে।
এই সর্বনাশা বিপর্যয় কে আটকানোর স্থায়ী ব্যবস্থা কি ? আজকে যে ভাবে ভগ্ন হৃদয় এবং হৃদয়ে বক্তক্ষরণ নিয়ে এই লেখা লিখছি ঠিক তেমনি ২০১৭ সালের ব্যাাপক ফসলহানির পরে একটি অনুরোধমূলক লেখা লিখেছিলাম এই বলে। এমনতর প্রাকৃতিক বিপর্যয় তথা জল দানব কে আটকাতে প্রয়োজন বর্তমান সরকার দলীয় নেতাদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক জোর প্রচেষ্টা। জোরালো ঐক্য চলতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ক্ষতিগ্রস্ত জনতা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
লেখক: আমেরিকাপ্রবাসী চিন্তক।