আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
পিতার নাম পরিবর্তন করে ফসল রক্ষা বাঁধের একই প্রকল্প কমিটিতে ৩ সহোদর থাকার অভিযোগ ওঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০১৭ সালের কাবিটা প্রকল্প কমিটি গঠনের নিয়মানুযায়ী ফসল রক্ষা বাঁধের কমিটিতে সদস্য থাকার শর্ত হচ্ছে, হাওরপাড়ের বাসিন্দা ও জমির মালিক হতে হবে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রকল্প কমিটিতে রাখা যাবে না।
কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাটিয়ান হাওরের ৬৩ নং প্রকল্প আলমখালী বাঁধের ৫ সদস্যের একটি প্রকল্প কমিটিতে আপন ৩ ভাই সদস্য থাকার অভিযোগ ওঠেছে। আইন উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন ও সিরাজ মিয়া তারা ৩ জনই আপন সহোদর ভাই। আইন উদ্দিনের পিতার নাম লিখেছে জাবিদ আলী, ইসলাম উদ্দিনের পিতার নাম লিখেছে মো. আবুল হোসেন, সিরাজ মিয়ার পিতার নাম লিখেছে মৃত জাবেদ আলী।
এ ঘটনায় মাটিয়ান হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। মাটিয়ান হাওরপাড়ের দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের গ্রাম কাউকান্দি। এ গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, মাটিয়ান হাওরের অত্যন্ত ঝঁুকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ আলমখালি। এ বাঁধে এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের তুলনায় কাজের পরিমান ও গুণগত মান খুবই খারাপ। নির্মাণ কাজে কোন প্রকার দুর্মুজ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প কমিটিতে আইন উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন ও সিরাজ মিয়া আপন ৩ ভাই। একই কমিটিতে ৩ ভাই থাকার জন্য তাদের বাপের নাম উল্টাইয়া পাল্টাইয়া (পরিবর্তন করে) দিছে।
চতুর্ভূজ গ্রামের কৃষক আসিকুল ইসলাম বলেন, মাটিয়ান হাওর ৬৩ নং প্রকল্প আলমখালি বাঁধের সদস্য সচিব দেয়া হয়েছে মইনুল হোসেনকে। মইনুল হোসেন হাওরে কোনাজাল দিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করে। মইনুল হোসেন কাউকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য। একজন প্রকৃত কৃষককে ফসল রক্ষা বাঁধের সদস্য সচিব না করে একজন মৎস্যজীবীকে সদস্য সচিব করায় কৃষকেদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মাটিয়ান হাওরের ৬৩ নং প্রকল্পের সভাপতি আইন উদ্দিন বলেন, প্রকল্প কমিটি গঠনের সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল। প্রকল্প কমিটিতে সদস্য থাকার জন্য অনেককেই বলেছি কেই থাকার আগ্রহ দেখায়নি। তাহলে পিতার নাম পাল্টিয়েছেন কেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, জাবিদ আলী ও মো. আবুল হোসেন একই ব্যক্তি।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী ইউনুছ আলী বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কমিটি গঠনের সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল। প্রকল্প কমিটি গঠনে আমার কোন দায়িত্ব ছিল না। তবে মাটিয়ান হাওরপাড়ে অনেক বড় বড় গৃহস্থ রয়েছে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন প্রকল্প কমিটিতে নেই। তিনি আরো জানান, একটি প্রকল্প কমিটিতে একই পরিবারের ৩ জন সদস্য থাকার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। এখন দুর্যোগ মুহুর্তে সবাই বাঁধের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। ফসল উঠার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


