বাবুর জাঙ্গালে বাঁধ নির্মাণ করে রক্ষা পেল গুরমা হাওরের ফসল

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
বর্ধিত গুরমা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্রবল বেগে হাওরে পানি ঢুকার পর অন্যান্য হাওরের ফসল রক্ষায় হাওরপাড়ের কৃষকরা রবিবার সন্ধ্যা থেকে বাবুর জাঙ্গাল মেরামতের কাজ শুরু করছিলেন। প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত বাঁধের কাজ করে পানি আটকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুরমা হাওরপাড়ের কৃষকরা। টানা এভাবে আরও একদিন কাজ করতে পারলে গুরমা হাওরের ভিতরে বাইনচাপড়া, গুরমা, ফনা, আতনা,শিববাড়ি ও মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের কয়েকটি হাওর ও ঘাসি নদীর জমিগুলোর ফসল রক্ষা করা যাবে।
দুমাল গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন, রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর ও সোমবার সারাদিন কাজ বাঁধে মাটির কাজ করেছি। এখন গুরমাসহ কয়েকটি হাওরের আর কোন সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।
লামাগাঁও গ্রামের কৃষক জিওন মিয়া বলেন, ৫’শ ফুট দৈর্ঘের বাবুর বাঁধটির কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন কৃষক দিনরাত কাজ করে শেষ করতে হয়েছে। বাঁধটি নিরাপদ করতে এর উপর আরো এক ফুট মাটি ফেলতে হবে বলেও তিনি জানান।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত একটি এসকেভেটর ও একটি জাম্প ট্রাক দিয়ে বিরামহীনভাবে শ্রমিকরা মাটির কাজ কাজ করার পর লামাগাঁও বাজারের পূর্বপাশের বাবুর বাঁধটির ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও একদিন কাজ করতে পারলে আর কোন সমস্যা হবে না।
তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন,বাবুর জাঙ্গালটি রাতভর সেখানে উপস্থিত থেকে কৃষকদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। আপাতত ৪ ফুট উচ্চতায় বাঁধ হয়েছে। আরো একফুট উচ্চতা করা হবে। বাঁধটির কাজ সম্পন্ন হলে গুরমা হাওরের ভিতরে বাইনচাপড়া,গুরমা,ফনা,আতনা,শিববাড়ি ও মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের কয়েকটি হাওর ও ঘাসি নদীর পাড়ের জমিগুলোর ফসল রক্ষা করা যাবে।
প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেলে বর্ধিত গুরমার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে নোয়াল ও খাউজ্যাউরি হাওরের দিকে পানি ঢুকছিল।